kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে, বলল জেলা আ.লীগের একাংশ

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ১৮:২৮ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে, বলল জেলা আ.লীগের একাংশ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের একাংশ।

আজ বুধবারে (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. ইউসুফ গাজী।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ত্যাগ, ও সংগ্রামের লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে একজন সৎ ও সফল রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশে বিদেশে পরিচিত ডা. দীপু মনিকে কী উদ্দেশ্যে জমি অধিগহণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে তার মতো একজন রাজনীতিবিদের সুনাম ও সম্মান নষ্ট করার জন্য অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে তা উদঘাটিত হওয়া প্রয়োজন। চাঁদপুরে কোনো অধিগ্রহণকৃত জমিতে কোথাও কখনো ডা. দীপু মনি বা তার পরিবারের কোনো জমি কখনো ছিল না।

বিজ্ঞাপন

তার উদ্যোগে চাঁদপুর হাইমচরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়। সেখানে জমির মূল্য শতাংশ প্রতি ৫ হাজার টাকা থেকে কয়েক লাখ টাকায় উন্নীত হয়। সরকারের নিকট হতে ক্ষতিপূরণ লাভের আশায় বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সেখানেও ডা. দীপু মনি বা তার পরিবারের কখনো কোনো জমি ক্রয় করেননি।

লিখিত পত্রের বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডা. দীপু মনি বা তাঁর পরিবারকে জড়িয়ে জঘন্য মিথ্যাচার করছে তাদের আসল উদ্দেশ্যে উদঘাটিত হওয়া জরুরি। ডা. দীপু মনি ও তার বড় ভাইয়ের কেউ কখনো কোনো আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির সাথে কোনোদিন জড়িত ছিলেন না বা নেই। অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত জমির মূল্য ইচ্ছাকৃতভাবে বৃদ্ধি করার জন্য বেশী মূল্যে জমি হস্তান্তরের ঘটনা যদি ঘটে থাকে তবে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে ডা. দীপু মনি মনে করেন।

লিখিত বক্তব্যে মো. ইউসুফ গাজী আরো উল্লেখ্য করেন, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমদ ইতিমধ্যে বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে যে বক্তব্য প্রদান করেছেন তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন না। বিদেশ থেকে যারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো অনলাইন নিউজ পোর্টালে তার এই বক্তব্য দেশ ও সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের সামিল। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক নগ্ন অপপ্রচারকে উসকে দিয়ে তিনি প্রকৃতপক্ষে সরকার ও দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে আমরা মনে করি।

এদিকে, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি, সাবেক মেয়র নাসির উদ্দিন আহমদ তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, আমি অনলাইন নিউজ পোর্টালে যে বক্তব্য প্রদান করেছি, সেখানে আমি শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির বিরুদ্ধে কিছুই বলেনি। যেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রশাসন আমাদের যোগাযোগ করেনি।

নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, দ্বিতীয় আপত্তি হলো, এখানে এক বছরে জমির মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা জেলা প্রশাসক একটি প্রতিবেদনও দিয়েছে। আর জমির অধিক মূল্য নিয়ে বেশ কিছু মিডিয়া সংবাদও প্রকাশ করেছে। কিছু সংখ্যক লোক জমির দাম বাড়িয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফন্দি করেছে। এটা সরকার টাকা, জনগণের টাকা। এই টাকা যাতে কোনোভাবেই লোপাট না হওয়া, এটাই ছিল আমার মূল বক্তব্য। আমি শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেনি। তবে তার আত্মীয় স্বজন এবং কাছের লোকগুলো এই কাজের সঙ্গে জড়িত আছে, আমি সেই কথা বলেছি। আর এই কথা সত্য। দুই চারজন মিলে আওয়ামী লীগের একাংশ হয় না। আমি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আমার সামনে এত বড় একটি অন্যায় কাজ হবে, আর তা প্রতিবাদ করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ববোধ থেকে আমি কথাগুলো বলেছি। আর সেই কথা যদি কারো গায়ে লাগে, তা আমার কিছু করার নেই। আমি সরকার ও রাষ্ট্রের পক্ষে কথা বলেছি।

অন্যদিকে, বুধবার দুপুরে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌসের উপস্থাপনায় আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, শহীদ পাটওয়ারী, শরীফ চৌধরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, এ এইচ এম আহসান উল্লাহ
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক অজয়  কুমার ভৌমিক, উপদপ্তর সম্পাদক  অ্যাডভোকেট রনজিৎ রায় চৌধরী, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আলম মিল্টন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলাহজ নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান প্রমুখ।

এমন পরিস্থিতিতে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ তার ফেসবুক থেকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, জমি অধিগ্রহণের মূল্য নিয়ে কোথাও কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দেননি। তিনি যা করেছেন, সরকারের প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে দাপ্তরিক কাজ করেছেন। আর এই বিষয় কোনো গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্যও প্রদান করেননি। ইতিমধ্যে তার অভিযোগ এবং বক্তব্য প্রদান নিয়ে যা প্রচার হয়েছে। তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসক সম্মেলন শেষে কর্মস্থল চাঁদপুরে ফেরার পর অঞ্জনা খান মজলিশ করোনায় আক্রান্ত। বর্তমানে তিনি সরকারি বাসভবনে আইসোলেশনে আছেন।



সাতদিনের সেরা