kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

‘পানি বেইচ্চা সংসার চালাই'

শ্রীবরদী ( শেরপুর) প্রতিরিধি   

২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ১৪:১২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘পানি বেইচ্চা সংসার চালাই'

‘মেলাদিন অইল স্বামী চইলা গেছে। দুইডা মাইয়া। বাপের ভিডায় থাহি। ওগোর খাওন দিতে অয়।

বিজ্ঞাপন

কি করুম? পেটের লাইগা আই। পানি বেইচ্চা সংসার চালাই। এক কলসি পানি ২০ থেকে ২৫ ট্যাহা দেয়। যেদিন লোক বেশি অয়, হেদিন তিন থেকে চারশ ট্যাহা পাই। অহন লোক কম অইতাছে। ’

আজ মঙ্গলবার শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার পাহাড়ি এলাকা গজনী পিকনিক সেন্টারে কথাগুলো বলছেন পানি বিক্রেতা রাশেদা বেগম (৫৫)। তার বাড়ি বাকা কোড়া গ্রামে। তিনি জানান, তার স্বামী ইব্রাহিম। তিনি তাকে ফেলে প্রায় একযুগ আগে অন্যত্র চলে গেছেন। রেখে গেছেন দুই কন্যাসন্তান। এই নারী সহায় সম্বলহীন। তিন সদস্যের সংসার। গজনী পিকনিক সেন্টারে আসা পর্যটকদের মাঝে পানি বিক্রি করে চলে তার সংসার। তিনি বলেন, ‘পাহাড়ের নিচে থাইকা কলের পানি নিয়া আহি। এক কলসির বেশি আনা যায় না। ’ তিনি আরো বলেন, এক কলসি পানি লইয়া সেন্টারের এক পাহাড় হইতে আরেক পাহাড়ে যাই। ’

শুধু রাশেদা বেগমই নয়। গান্দিগাও গ্রামের মাহফুজা বেগমও (৪৫) পানি বিক্রি করে সংসার চালান। তিনি জানান, তার স্বামী মোশারফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার ৩ ছেলে, ২ মেয়ে। ৭ সদস্যের এই পরিবারে আয় করার কেউ নেই। বাধ্য হয়ে তাকে নামতে হয়েছে পানি বিক্রি করতে। প্রতিদিন সকালে কলস নিয়ে ছুটে আসেন পিকনিক সেন্টারে। সারাদিন চলে পানি বিক্রি।  

রাশেদা ও মাহফুজার মতো ফাতেমা, রশিদাসহ ৩০ হতে ৩৫ জন নারীর সংসার চলে পানি বিক্রি করে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েকজন পানি ক্রেতা জানান, রান্নার জন্য পানি কিনতে হয়। এ ছাড়াও দামে কম। এখানকার পানি অনেকটাই ভালো। খাবার জন্যও এই পানি নিতে হচ্ছে।  

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, এখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক আসে। একেক এলাকার লোক একেক পাহাড়ে খাবার জন্য বসেন। এসব পাহাড়ে পানির চাহিদাও বেশি।

স্থানীয় সমাজসেবক জহুরুল হক বলেন, এসব পানি বিক্রেতারা মাঝে মধ্যে পড়েন পিকনিকে আসা লোকজনের রোষানলে। এ জন্য পিকনিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করলে তারা সম্মানের সঙ্গে করতে পারবে এ ব্যবসা।



সাতদিনের সেরা