kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

ছাত্রকে লাঞ্ছিত করায় জাবির দুই ছাত্রী বহিষ্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০২:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছাত্রকে লাঞ্ছিত করায় জাবির দুই ছাত্রী বহিষ্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের (৪৪তম ব্যাচ) এক ছাত্রকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের (৪৬তম ব্যাচ) ছাত্রী সুমাইয়া বিনতে ইকরামকে এক বছরের জন্য এবং তাঁর সহপাঠী আনিকা তাবাসসুম মীমকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ছাত্রকে চড় মারার ঘটনায় অভিযুক্ত সুমাইয়া বিনতে ইকরামকে এক বছরের জন্য এবং ভুক্তভোগী ছাত্রের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ায় আনিকা তাবাসসুম মীমকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ সময় তাঁরা ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না, হলে থাকতে পারবে না, ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারবেন না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না।

এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ছয় শিক্ষার্থী বটতলার রাস্তা ধরে হাঁটছিলেন। এ সময় ওই ছাত্রী তাঁর এক বান্ধবীসহ একই রাস্তা ধরে বিপরীত দিক থেকে আসছিলেন। ওই ছাত্রী ছয় শিক্ষার্থীকে রাস্তা ছেড়ে দিতে বলেন। তখন ওই ছয় শিক্ষার্থী জানান রাস্তায় যথেষ্ট ফাঁকা জায়গা আছে। পরে ছাত্রী উচ্চবাচ্য শুরু করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থীর হস্তক্ষেপে তখনকার মতো বিষয়টি থেমে যায়। পরে ওই ছাত্রীর ছেলেবন্ধু শিহাব খান দিগন্ত সেখানে যান। তিনি ওই ছয়জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করেন। কথা বলার সময় ওই ছাত্রী পেছন থেকে গিয়ে ওই ছয়জনের মধ্যে একজনের শার্টের কলার ধরে উপস্থিত সবার সামনে চড় মারেন। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোরগোল শুরু হয়। পরে ওই ছাত্রী ও তাঁর বান্ধবী বটতলার একটি দোকানে ঢুকে পড়েন।

এ ঘটনা জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কয়েকজন সদস্য সেখানে যান। তারা ওই ছাত্রীসহ সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল অফিসে নিয়ে যান। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষই লিখিত বক্তব্য জমা দেয়। শিক্ষার্থীরা এসময় অভিযুক্তর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।

মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি বডির মিটিংয়ে অভিযুক্তদের বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয় যা পরর্বতীতে সিন্ডিকেট সভায় পাশ হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা নিপা বলেন, ‘আমরা ছয়জন বন্ধু বটতলার রাস্তায় বাম পাশ দিয়ে হাঁটছিলাম। তখন দুজন অপরিচিত মেয়ে ডান পাশ দিয়ে আমাদের অতিক্রম করছিল। আবার তারা উচ্চ স্বরে বলছিল রাস্তায় সাইড দিয়ে চলতে পারেন না। তখন আমাদের একজন বলল রাস্তা তো ফাঁকা আছে। এ সময় একটি মেয়ে অসংলগ্ন উচ্চবাচ্য শুরু করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এরপর এসব সহ্য করে আমরা স্থান ত্যাগ করি। ’

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী কাজী বিজয় বলেন, ‘এই ঘটনার আধা ঘণ্টা পরে অভিযুক্তের বন্ধু বটতলার একটি খাবারের দোকানে আমাদের ডাকে৷ এ সময় আমরা ঘটনার বিবরণ বর্ণনা করছিলাম। কিন্তু আকস্মিকভাবে অভিযুক্ত ছাত্রী পেছন থেকে এসে আমার সহপাঠীকে গালে চড় দেয় ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এরপরে অভিযুক্তের বন্ধু দিগন্ত তার বান্ধবীকে নিয়ে অন্য একটি দোকানের মধ্যে চলে যায়। ’



সাতদিনের সেরা