kalerkantho

সোমবার ।  ২৩ মে ২০২২ । ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২১ শাওয়াল ১৪৪৩  

ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে তরুণীর লাশ, আদালতে প্রেমিকের স্বীকারোক্তি

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ২৩:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে তরুণীর লাশ, আদালতে প্রেমিকের স্বীকারোক্তি

রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে এক তরুণীর ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মিথুন ওরফে আকাশ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল আমিন।

তিনি জানান, দুপুরে মিথুনকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সন্ধ্যায় তার জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

আদালত সূত্র বলছে, রুহির সঙ্গে পরিচয়ের কথা স্বীকার করেছেন মিথুন। তবে রুহি তাকে প্রথম থেকে ভালবাসার কথা বললেও তিনি রাজি ছিলেন না। তার নম্বর একাধিকবার ব্লাক লিস্টে রেখেছিলেন। এক পেশে ভালোবাসার কারণে ফোন বন্ধ রেখেছিলেন তিনি। রুহির সঙ্গে পরিচয়ের পর যা যা ঘটেছিল, তা সবিস্তারে আদালতকে জানিয়েছেন মিথুন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু থানার হরিয়ারঘাট গ্রামের সেকেন্দার আলীর মেয়ে রুহির সঙ্গে আকাশের (মিথুন) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত বছরের মার্চ মাসে ঝিনাইদহ থেকে আকাশের সঙ্গে দেখা করতে রংপুরের বাহারকাছনা রাম গোবিন্দমোড়ে আসেন রুহি। এ সময় রাতে একা ঘোরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয় লোকজন ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে সেখান থেকে রুহিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাঁকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রেখে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।  
গত শনিবার রুহি আবার আকাশের সঙ্গে দেখা করতে ঝিনাইদহ থেকে রংপুরে আসেন। এ সময় আকাশের মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে বাহারকাছনা রাম গোবিন্দমোড়ে ঘোরাঘুরি করতে থাকেন রুহি। বিষয়টি নজরে এলে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ৯৯৯-এ কল করে স্থানীয় লোকজন।

পরে হারাগাছ থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়।

সেখানে থাকা অবস্থায় গত রবিবার দুপুরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন বলে দাবি পুলিশের। পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়না তদন্ত শেষে সোমবার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় গতকাল সোমবার বিকেলে প্রেমিক মিথুন তথা আকাশের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে রুহির বাবা কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় মিথুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মিথুন গঙ্গাচড়ার ধামুর গ্রামের ইবাদত আলীর ছেলে। তিনি নিজের নাম মিথুন হলেও প্রেমিকা রুহির কাছে আকাশ বলে পরিচয় দেন এবং বাড়ি গঙ্গাচড়ায় হলেও রংপুর নগরের হারাগাছ থানার বাহারকাছনা রাম গোবিন্দমোড়ের ঠিকানা দিয়েছিলেন।



সাতদিনের সেরা