kalerkantho

সোমবার ।  ২৩ মে ২০২২ । ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২১ শাওয়াল ১৪৪৩  

হাসপাতাল থেকে নবজাতক উধাও, ৬ ঘণ্টা পর ফিরল মায়ের কোলে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ১৯:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাসপাতাল থেকে নবজাতক উধাও, ৬ ঘণ্টা পর ফিরল মায়ের কোলে

উদ্ধারের পর মায়ের কোলে নবজাতক।

হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল থেকে একটি নবজাতক উধাও নিয়ে দিনভর চলে তুলকালাম কাণ্ড। উধাওয়ের ৬ ঘণ্টা পর সেই নবজাতককে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের এক নারীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় মায়ের কোলে।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়রি) সকালে হাসপাতালের স্ক্যানো ওয়ার্ড থেকে হারিয়ে যায় শিশুটি।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় নবজাতকের স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছেন। তবে ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত নাকি ভুলবশত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।  

নবজাতকটি জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার মড়রা গ্রামের দেলওয়ার হোসেন ও ফেরদৌস আরা দম্পতির সন্তান।

নবজাতকের ফুফু নুরুন্নাহার বেগন জানান, সোমবার রাতে নবজাতকের মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার ভোরে তিনি একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। ঠাণ্ডাজনিত কারণে নবজাতকটিকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় স্ক্যানো ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এ সময় নবজাতকের মা নিচতলায় গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে স্ক্যানো ওয়ার্ডের বাইরে বসা ছিলেন তার ফুফু ও নানি।  

সকাল ৯টার দিকে নবজাতকের ফুফু বাচ্চা আনতে স্ক্যানো ওয়ার্ডে গেলে দায়িত্বরত নার্স জানান বাচ্চাকে তার বাবা নিয়ে গেছেন। অথচ ওই সময় নবজাতকের বাবা হাসপাতালেই ছিলেন না।

ঘটনার খবর পেয়ে নবজাতকের বাড়ি থেকে তার বাবা ও স্বজনরা হাসপাতালে আসেন। এ সময় হাসপাতালে উত্তেজনা দেখা দিলে সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত এভাবেই চলে নানা নাটকীয়তা। অবশেষে সেই নবজাতকের সন্ধান মেলে গাইনি ওয়ার্ডের আকলিমা বেগম নামের এক নারীর কাছে।

আজমিরীগঞ্জের শিবপাশা এলাকার মাসুম চৌধুরী ও আকলিমা বেগম দম্পতি সকালেই কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। তাঁদের শিশুও ছিল স্ক্যানো ওয়ার্ডে। সকাল ৯টার দিকে মাসুম চৌধুরীর মা রাবেয়া খাতুন ওই নবজাতককে স্ক্যানো ওয়ার্ড থেকে নিয়ে আসেন।

রাবেয়া খাতুন জানান, নার্স ভুলে কন্যাশিশুর বদলে ছেলেশিশুটি তাঁদের কাছে দিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর তাঁরা দেখতে পান কন্যাশিশুর বদলে স্ক্যানো ওয়ার্ড থেকে তাঁদেরকে একটি ছেলেশিশু দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তাঁরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানাতে চাইলেও ভয়ে জানাননি। এক পর্যায়ে সুযোগ বুঝে তাঁরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান।

হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকার বলেন, ‘মঙ্গলবার ৯টা ৫ মিনিটের দিকে আমাদের ওয়ার্ড থেকে একটা বাচ্চা উধাও হয়ে যায়। আমি দায়িত্বরত সিস্টারের সাথে কথা বলে জানতে পারি বাচ্চাটি কান্নাকাটি করছিল। এ সময় একজন ব্যক্তি বাচ্চার বাবা পরিচয় দিয়ে নিয়ে যান। পরে তাঁরা দাবি করেন বাচ্চাটি তাঁরা নেননি। ’

তিনি বলেন, ‘এখান থেকে বাচ্চা উধাও হওয়ার কোনো কথা না। তবে আল্লাহর রহমতে বাচ্চাটিকে সুস্থ অবস্থাতেই পাওয়া গেছে। শুধু ভুলবশত একটু ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ’

ডা. আমিনুল হক সরকার বলেন, ‘আজমিরীগঞ্জের নবজাতকটি বর্তমানে স্ক্যানো ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। ’

হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুক আলী বলেন, ‘সদর হাসপাতাল থেকে একটি নবজাতক উধাও হওয়ার খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে এসে তদন্ত শুরু করি। হাসপাতালের স্ক্যানো ওয়ার্ড বা এর আশপাশে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় বিষয়টি একটু জটিল হয়ে যায়। তবে খুশির খবর হচ্ছে বাচ্চাটিকে পাওয়া গেছে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে শিশু নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছে, এটি ইচ্ছাকৃত নাকি ভুলবশত হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। '



সাতদিনের সেরা