kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

রাজৈরে অবহেলায় সদ্যোজাতের মৃত্যুর অভিযোগ, ধামাচাপার চেষ্টা

রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ১৫:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজৈরে অবহেলায় সদ্যোজাতের মৃত্যুর অভিযোগ, ধামাচাপার চেষ্টা

ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর শিশুটিকে কোলে নিয়ে তার মা জেসমিন বেগম

মাদারীপুরের রাজৈরে চিকিৎসার অবহেলায় সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে উপজেলার টেকেরহাট সেফ ডেলিভারি হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী হসপিটালটি ঘেরাও করে এর প্রতিবাদ করতে থাকে। পরে খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে রাজৈর থানার ওসি শেখ সাদিক ও রাজৈর-শিবচর এসপি সার্কেল আনিসুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে বিচারের আশ্বাস দিলে ভুক্তভোগীরা চলে যায়।  

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলে, ওই হাসপাতালে মো. আবুল হোসেন ও হাফিজা আক্তার রত্না ডেলিভারি কার্যক্রমের সর্বেসর্বা।

বিজ্ঞাপন

তাঁরা এ হাসপাতালের মালিক এবং সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। এখানে কোনো এমবিএস ডাক্তার বা ডিএমএফ বা  এলএমপি নামে পল্লী চিকিৎসকও নেই। একটি প্রভাবশালী মহল এ ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।  

ভুক্তভোগী প্রসূতি জেসমিন বেগমের স্বামী রাকিব বলেন, 'আমার স্ত্রী জেসমিন বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে রবিবার রাত ৯টার দিকে টেকেরহাট সেইফ ডেলিভারি হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাই। সেখানে ৮ হাজার ৪০০ টাকা খরচ পড়বে এই শর্তে ভর্তি করেন হসপিটালের মালিক হাফিজা আক্তার রত্না। পরে ওই দিন দিবাগত রাত ১টার দিকে তাঁরা স্বামী ও স্ত্রী মিলে প্রসূতির নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন করেন। এ সময় আমার বাচ্চার শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিলে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে পরদিন সোমবার বেলা ১২টার সময় আমাদের হসপিটাল থেকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। পরে আমার বাচ্চা ওই দিন রাত ১০টার দিকে মারা যায়। ' তিনি আরো বলেন, 'ওই হসপিটালে কোনো ডাক্তার ছিল না। আমার বাচ্চার মৃত্যুর বিচার চাই। তবে তারা মীমাংসার কথাবার্তা বলার চেষ্টা করছেন। '

এ ব্যাপারে কথিত ডাক্তার হাফিজা আক্তার রত্না জানান, সদ্যোভূমিষ্ঠ শিশুটি সুস্থ অবস্থায় বাড়ি নিয়ে গেছে। হয়তো ঠিকমতো ওষুধ খাওয়াতে ভুল করেছেন। এ কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মীমাংসার কথাবার্তা চলছে।

জেলার হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার সমিতির সভাপতি মো. জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, 'ঘটনা জেনেছি। ডাক্তার ছাড়া প্রসূতির ডেলিভারি করানো কাম্য নয়, অনাকাঙ্ক্ষিত। '

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ওসি শেখ সাদিক বলেন, 'লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। '

মাদারীপুর সিভিল সার্জন ডা. মনির আহমদ খান জানান, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অপ্রশিক্ষিত বা সনদবিহীন ব্যক্তি এ কাজ করে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সনদবিহীন ব্যক্তিদের এ কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সূত্র জানায়, টেকেরহাট বন্দরসসহ রাজৈর উপজেলা মোট ২৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল রয়েছে। দু-একটা ব্যতিরেকে এসব জায়গায় কাগজে কলমে নিয়োগ দেওয়া থাকলেও সার্বক্ষণিক এমবিএস ডাক্তার বা ডিএমএফ অথবা এলএমপি পল্লী চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত নার্স থাকেন না। অথচ হসপিটাল চালুর করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের লাইসেন্স দিয়েছে।



সাতদিনের সেরা