kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও মির্জাপুরে ৩ অবৈধ ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে ইট

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি    

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ১০:৪৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও মির্জাপুরে ৩ অবৈধ ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে ইট

গত বছর ৬ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৫টি অবৈধ ইটভাটা ভেঙে দেয়। এছাড়া ওই সময় ৫ ইটভাটা মালিকের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা করে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদলত। জরিমানা ও ইটভাটা ভেঙে ফেলার পরও অসাধু ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় তিনটি ইটভাটায় আবারো ইট তৈরি করা হচ্ছে। কয়লার দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে এসব ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠও ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় ভাটাগুলোতে পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদের নেতৃত্বে ওই অভিযান চালানো হয়। টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোজাহিদুল ইসলাম তখন উপস্থিত ছিলেন। এ নিয়ে গত বছর ৬ জানুয়ারি কালের কণ্ঠ অনলাইনে ‘৫ ইটভাটা ধ্বংস, জরিমানা ৩০ লাখ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।  

ভ্রাম্যমাণ আদালত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন এ উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের ধেরুয়া এলাকার শহীদুর রহমানের ভাই ভাই ব্রিকস, শাহ আলমের দিশা-আশা ব্রিকস, রানাশাল এলাকার আওলাদ হোসেনের হাকিম ব্রিকস, মির্জাপুর সদরের বাইমহাটী গ্রামের সুলতান উদ্দিনের স্টার স্টাইল ও পাকুল্যা এলাকায় রাজীব চৌধুরী সিক্স ব্রাদার্স ইটভাটি ভেকু মেশিন দিয়ে ভেঙে ফেলেন। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, চলতি বছর ভাই ভাই ব্রিকস, দিশা-আশা ব্রিকস ও রানাশাল এলাকার হাকিম ব্রিকস ভাটায় পুনরায় ইট তৈরি ও পোড়ানো হচ্ছে। এছাড়া স্টার স্টাইল ব্রিকস চালু করার প্রস্তুতি চলছে।  

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই আবাদি জমির মধ্যে গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা। প্রশাসনের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ইট পোড়ানো হচ্ছে এসব ভাটাগুলোতে। পরিবেশের মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।  

পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ভেঙে দেয়ার পর পুনরায় অবৈধ ইটভাটায় ইট পোড়ানোয় টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।   

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, ধেরুয়া ও রানাশাল এলাকায় ইটভাটা তৈরি হওয়ার আগে জমিতে ফসল ভালো হতো। গাছে অনেক ফল ধরতো। ভাটা হওয়ার পর ফসল উৎপাদন ও ফল ধরা কমে গেছে। কিছু বলার নেই। ভাটার ধোঁয়ার কারণে আশপাশের বাড়িগুলোতে ফলের গাছে ফল ধরছে না। ভাটা ভেঙে দেয়ার পরও যখন আবার চালু হয়েছে, এতে আমাদের কথার কোনো মূল্য থাকবে!  

ভাই ভাই ব্রিকস, দিশা-আশা ব্রিকস ও রানাশাল এলাকার হাকিম ব্রিকসের মালিক যথাক্রমে শহীদুর রহমান, শাহ-আলম ও আওলাদ হোসেন জানান, তারা উচ্চ আদালতে রিট করে পুনরায় ভাটা চালু করেছেন।  

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজাহিদুল ইসলাম জানান, মির্জাপুর উপজেলায় ১০৫ ৫টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টি ইটভাটার ২০২১ সাল পর্যন্ত অনুমোদন ও ছাড়পত্র ছিল এবং ৩৫টি ইটভাটার অনুমোদন ও ছাড়পত্র ছিল না। চলতি বছর কয়েকটি ভাটা বন্ধ রয়েছে। বাকি সব ভাটায় ইট তৈরি করা হচ্ছে। গত বছর অভিযান চালিয়ে ভেঙে ফেলা ৫টি ভাটার মধ্যে ৩টি ভাটা পুনরায় চালু করা হয়েছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা শুনেছি। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় আমাদের মাজিস্ট্রেট নেই। অভিযান পরিচালনার জন্য বিচারক চেয়ে জেলা প্রশাসক ও মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পত্র দেয়া হয়েছে।  

উচ্চ আদালতে ওই তিন ভাটার মালিক রিট করে ভাটা চালু করেছেন- এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, তারা উচ্চ আদালতে রিট করেছেন। তবে আদেশ পাননি। ২০২১ সাল পর্যন্ত যেসব ইটভাটা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন বা ছাড়পত্র পায়নি তারা আর কখনো অনুমোদন ও ছাড়পত্র পাবেন না বলে জানান।



সাতদিনের সেরা