kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

কারচুপির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৬ প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০৫:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কারচুপির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৬ প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা

ইউপি চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কারচুপি ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে ফলাফল বাতিল চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় জজ আদালতের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল থেকে পাঠানো নোটিশ সোমবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ইউপি চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহর হাতে পৌঁছেছে।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, গত রবিবার লক্ষ্মীপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আশ্রাফ উদ্দিন রাজন রাজু মামলা দায়ের করেন। তিনি দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে মোটরসাইকেল প্রতিক নিয়ে ভোটে হেরে যান।

বিজ্ঞাপন

মামলায় বিজয়ী চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ (হাতপাখা), প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হোসেন আহম্মদ হাওলাদার (আনারস), মো. নুরুল ইসলাম (নৌকা), ইব্রাহিম বাবুল মোল্লা (চশমা), মহিউদ্দিন হাওলাদার (ঘোড়া) ও মো. শরীফ হোসেনকে (অটোরিকশা) অভিযুক্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়।

জানা গেছে, গত ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে চরকাদিরায় ভোট হয়। এ ইউনিয়নে আশ্রাফ উদ্দিনসহ ৭ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ। ২৯ নভেম্বর গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যরা শপথ গ্রহণ করে পরিষদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এনিয়ে টানা দুবার খালেদ সাইফুল্লাহ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে আশ্রাফ উদ্দিন দ্বিতীয় হন। ভোটের পরদিন তিনি নিজেই বাড়িতে গিয়ে ফুলের মালা দিয়ে বিজয়ী চেয়ারম্যানকে বরণ করে নেন। এসময় তারা একে-অপরকে মিষ্টি খাওয়ান।

এদিকে নির্বাচনের দুই মাস পর আশ্রাফ উদ্দিন ভোটের ফলাফল বাতিল চেয়ে লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। এতে তাকে চেয়ারম্যান পদে ঘোষণা করার আবেদনও করেছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, আদালত থেকে কারণ দর্শানো নোটিশ পেয়েছি৷ আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে নোটিশের জবাব দেব৷ কারচুপি করার কোনো সুযোগ নেই। গেল ৫ বছর সততার সঙ্গে জনগণের খেদমত করেছি। সুষ্ঠু ভোটে জনগণ আমাকে আবারো তাদের খেদমত করার সুযোগ করে দিয়েছেন।

এজাহার সূত্র জানা যায়, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা আশ্রাফ উদ্দিনের মোটরসাইকেলে ভোট দিয়েছেন। তিনি ৮ নম্বর কেন্দ্রে ৮৬৩ ভোট পান। অন্য কেন্দ্রগুলোতেও একইভাবে তিনি ভোট পেয়েছেন। কিন্তু ফলাফল বিররণীতে মোট ৩ হাজার ৭৯৭ ভোট দেখানো হয় তার। প্রকৃতপক্ষে এজেন্টদের দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি আরো বেশি ভোট পেয়েছেন। অথচ বিজয়ী চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ ৪ হাজার ৭৬৮ ভোট পেয়েছেন বলে দেখানো হয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রিজাইডিং অফিসাররা মোটরসাইকেলের প্রাপ্ত ভোটের ব্যালটের উল্লেখযোগ্য অংশ হাতপাখায় যুক্ত করে। এতে তার (আশ্রাফ উদ্দিন) ভোট কম দেখানো হয়। অনিয়ম ও কারচুপির মাধ্যমে বেআইনিভাবে তাকে পরাজিত ঘোষণা করে হাতপাখার প্রার্থীকে বিজয়ী করা হয়।

আশ্রাফ উদ্দিন রাজন রাজু দাবি করেন, সঠিকভাবে ভোট গননা করলে তিনি নির্বাচিত হতেন। এজন্য হাতপাখার প্রার্থীর চেয়াম্যান পদ বাতিল করে তাকে নির্বাচিত ঘোষণা ও ডিগ্রিদানের জন্য ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেছেন।

এ ব্যাপারে কমলনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জায়েদুল হোসেন চৌধুরী বলেন, আশ্রাফ উদ্দিন মামলা করেছেন কি না আমার জানা নেই। নোটিশের ব্যাপারেও চেয়ারম্যানও আমাকে কিছু জানাননি।



সাতদিনের সেরা