kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

শরণখোলায় করোনা পরীক্ষায় অনাগ্রহ, স্বাস্থ্যবিধি মানছে না মানুষ

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)   

২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ২২:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শরণখোলায় করোনা পরীক্ষায় অনাগ্রহ, স্বাস্থ্যবিধি মানছে না মানুষ

বাগেরহাটের শরণখোলায় জ্বর, সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিটি ঘরে এই রোগে ভুগছে মানুষ। হাসপাতালের বিহির্বিভাগে শিশু ও বয়স্ক মিলিয়ে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে শতাধিক রোগী। দিন দিন  বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যাও।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু করোনা পরীক্ষায় অনাগ্রহ সবার। স্বাস্থ্যবিধিও মানছে না অধিকাংশ মানুষ। হাসপাতালের করোনা টিকা কেন্দ্রেও গাদাগাদি করে টিকা নিতে দেখা গেছে। মাস্ক ব্যবহারে উদাসীন সবাই। ফলে, ব্যাপকহারে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে শরণখোলায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন যতো রোগী চিকিৎসা নিতে আসছে, তার মধ্যে ৯০ ভাগই জ্বর, সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। এর বেশিরভাগেরই করোনার লক্ষণ রয়েছে। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর ২টা পর্যন্ত ২৩ জনের করোনা টেস্টে ৯ জন পজিটিভ হয়েছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ১৭ শিশু ভর্তি রয়েছে হাসপাতালে।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই হাসপাতাল চত্বর ও দুটি বুথের সামনে করোনার টিকা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের প্রচন্ড ভিড়। কিন্তু এদের মধ্যে দু-এক জনের মুখে মাস্ক দেখা গেলেও বাকি সবার মুখই খালি। টিকার বুথের সামনে ঠেলাঠেলি করে আগে ঢোকার চেষ্টা করছে সবাই। এমন দৃশ্য দেখে করোনা নির্মূলের পরিবর্তে সংক্রমণ আরো ছড়াবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা। এ সময় উপজেলার গোলবুনিয়া গ্রাম থেকে তিন মাস বয়সী জান্নাতুল ফেরদৌসীকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন মা লাবণী আক্তার। শিশুটি দুদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছে। চিকিৎসক পরীক্ষা করে তার নিউমোনিয়া ধরা পড়েছে বলে জানান।

অপরদিকে, উপজেলার সদরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ। পথচারী-ব্যবসায়ী কারো মুখেই মাস্ক নেই। জনসমাগমও ঘটছে সেই আগের মতোই। সোমবার সকালে উপজেলা প্রশাসন থেকে মাইকিং করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনা প্রচার করা হলেও তার ধার ধারছে না কেউ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. এস এম ফয়সাল আহমেদ জানান, প্রতিদিন আউটডোরে শতাধিক রোগী দেখা হয়। এর মধ্যে ৯০ ভাগই জ্বর, সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়ার রোগী। এদের অধিকাংশেরই করোনার লক্ষণ রয়েছে। করোনা টেস্ট করার কথা বললে তারা পালিয়ে যায়। সঠিক পরীক্ষা হলে ৫০ভাগ মানুষের করোনা ধরা পড়বে বলে ওই চিকিৎসকের ধারণা।

শরণখোলা স্বাস্থ্য ও পরিবরা পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, করোনা টিকা ও সাধারণ চিকিৎসা নিতে আসা সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়। তারপরও মানুষ মানতে চায় না। করোনা টেস্টও করাতে হয় জোর করে। সেমাবার ২৩ জনের র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্টে ৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আজগর আলী বলেন, সবাইকে সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলারি বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকটি বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছি। পরবর্তীতে সরকারি নির্দেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করা হবে।



সাতদিনের সেরা