kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

শাবিপ্রবির দেয়ালে

'নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি : ভিসি পদ ফাঁকা আছে'

নুরুল ইসলাম রুদ্র, শাবিপ্রবি    

২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ২২:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি : ভিসি পদ ফাঁকা আছে'

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে ৯ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের শুরু থেকে বিক্ষোভ মিছিল, অনশন কর্মসূচি, ভিসির বাস ভবন ঘেরাওসহ প্রতিদিন বিভিন্ন স্লোগানে উত্তাল হচ্ছে পুরো ক্যাম্পাস। তবে সোমবার সকাল থেকে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। শুধু মুখেই নয়, তাঁদের স্লোগানগুলো এখন ছুঁয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি দেয়াল ও রাস্তা।

বিজ্ঞাপন

 

এ যেন রংতুলির ছোঁয়ায় অন্য রকম প্রতিবাদের ভাষা। গতকাল রবিবার গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, লাইব্রেরি ভবন, গোল চত্বরসহ পুরো ক্যাম্পাসে উপাচার্যবিরোধী নানা স্লোগান লিখে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।  

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘সেভ সাস্ট’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগানগুলো দেয়ালে ও সড়কে ফুটিয়ে তুলেছেন।  

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোল চত্বরের অর্ধেক অংশজুড়ে ‘পতন পতন পতন চাই, স্বৈরাচারের পতন চাই’, ‘যেই ভিসি মিথ্যা বলে, সেই ভিসি চাই না’, ‘যেই ভিসি বোমা মারে, সেই ভিসি চাই না’, ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, শাবিপ্রবি মুক্তি পাক’ 'নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি : ভিসি পদ ফাঁকা আছে' ইত্যাদি স্লোগান লেখা হয়েছে। এ ছাড়া দেয়ালগুলোতে ‘হীরক ভিসির শেষে’, ‘মৃত্যুর মুখে দাঁড়ালে আয়ু বেড়ে যায়’, ভিসি সমিতি একজোট’, ‘বোমাচার্য’, ‘সব জুলুমশাহীর পতন হোক’, ‘সাড়া দাও সাড়া দাও, উদাসীন থেকো না’, কিছু মাতাল হাওয়ার দল’, শোনে ঝোড়ো সময়ের গান’, ‘ফুলের বিরুদ্ধে বুলেট হলে বুলেটের বিরুদ্ধে কী?’, ‘আমার ঘর, আমার দোর, তুই কোথাকার ভুঁইফোঁড়?’ ইত্যাদি স্লোগানে লেখার মাধ্যমে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।  

অন্যদিকে গত ১৯ জানুয়ারি ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষকদের নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ ও অসদাচরণ’ আচরণের অভিযোগ’ এনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধনকালে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক লায়লা আশরাফুনের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ‘চাষাভূষার সন্তান, আমরা সবাই সাস্টিয়ান’, ‘চাষাভূষার ক্যাম্পাস’ ইত্যাদি স্লোগান লিখে প্রতিবাদ জানান তাঁরা। এ ছাড়া দেয়ালগুলোতে উপাচার্যের ‘নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি’তে ছড়িয়ে গেছে পুরো ক্যাম্পাস। ‘নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ভিসি পদ ফাঁকা আছে’ গ্রাফিতির মাধ্যমে নতুন উপাচার্যের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের অনেক রকম ক্ষোভ রয়েছে। এ ক্যাম্পাসে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া আমাদেরকে কখনো বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, রোড পেইন্টিং, গ্রাফিতি, দেয়াললিখন ইত্যাদি করতে দেওয়া হতো না। অথচ এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন দিবসে শিক্ষার্থীরা এসবের মাধ্যমে তাঁদের প্রতিভাকে তুলে ধরতে পারেন। আমাদের সে সকল রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যে উপাচার্য আমাদের এ সকল অধিকার বন্ধ করে দিয়েছে, আমরা তাকে আর চাই না, আমরা তার পদত্যাগ চাই।

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আলমগীর কবীর  বলেন, ‘আমি কোনো ধরনের মন্তব্য করতে চাই না। ' 

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩ জানুয়ারি রাত থেকে শুরু হওয়া প্রভোস্টবিরোধী আন্দোলনে ১৬ জানুয়ারি পুলিশের হামলা চালিয়ে ৩০ শিক্ষার্থীকে আহত করলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশনসহ আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।

শনিবার গণ-অনশনের ঘোষণা দিয়ে সেখানে আরো শিক্ষার্থী যোগ দেন। অনশনরত অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসা নিয়ে ফিরে আবারও অনশনে যোগ দেন।



সাতদিনের সেরা