kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

খুলেছে কুবির রেজিস্ট্রার দপ্তরের তালা, শর্তসাপেক্ষে আন্দোলন স্থগিত

কুমিল্লা প্রতিনিধি   

২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ২২:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খুলেছে কুবির রেজিস্ট্রার দপ্তরের তালা, শর্তসাপেক্ষে আন্দোলন স্থগিত

তিনদিন পর অবশেষে খুলেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) রেজিস্ট্রার দপ্তরের তালা। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শর্তসাপেক্ষে রেজিস্ট্রার দপ্তরের তালা খুলে দের আন্দোলনরত কুবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। এরপর রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের তার দপ্তরে প্রবেশ করেন।

গত বুধবার সন্ধ্যায় কুবির কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে রেজিস্ট্রারপদে দায়িত্ব দেওয়া ও বর্তমান রেজিস্ট্রারকে অপসারণের দাবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রেজিস্ট্রার দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

বিজ্ঞাপন

সোমবার শর্তসাপেক্ষে আন্দোলন স্থগিত করেছে কুবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

কুবি সূত্রে জানা যায়, কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে রেজিস্ট্রারপদে দায়িত্ব দেওয়া, বর্তমান রেজিস্ট্রারকে অপসারণ, কর্মচারীদের পদোন্নতির নীতিমালা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে গত বুধবার থেকে রেজিস্ট্রার দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করে আসছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়ে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে সোমবার সকাল ১০টায় এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা করা হয়। এতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় বসেন আন্দোলনকারীরা। এরপরই বিকেলে বিকেলে তালা খোলার সিদ্ধান্ত নেন আন্দোলনকারীরা।

তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্তমান রেজিস্ট্রার অপসারণ ও তাদের দাবি মানা না হলে পুনরায় আন্দোলন করা হবে বলে জানান। সোমবার আন্দোলনকারীরা এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন।  

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আলোচনা সাপেক্ষে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কর্মকর্তা থেকে রেজিস্ট্রারের দেওয়া না হলে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আবারও আন্দোলনে যাওয়া হবে। এ ছাড়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অন্যান্য উত্থাপিত দাবি আগামী ১৫ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে সিন্ডিকেট মিটিং করে বাস্তবায়ন করার দাবি জানান তারা।

কুবির কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো.মিজানুর রহমান বলেন, আমরা বর্তমান রেজিস্ট্রারের অপসারণ চাই, পাশাপাশি কর্মকর্তা থেকে রেজিস্ট্রার চাই। কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে রেজিস্ট্রার হলে আমাদের দাবি-দাওয়া পূরণ হবে। রেজিস্ট্রার আসার পর থেকে গত ৪ বছরে আমরা আশ্বাস ছাড়া কিছুই পাইনি। তাই আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছি। শর্তসাপেক্ষে আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় শিক্ষক থেকে হওয়া রেজিস্ট্রারের অপসারণ দাবি করে তার দপ্তরে তালা লাগিয়ে আন্দোলন শুরু করেন কুবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে রেজিস্ট্রার দপ্তরে তালা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রোববার দু'টি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এক পক্ষ দাবি আদায়ে অনড় থাকলেও আরেক পক্ষ আগের কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ান। ওই পক্ষটি রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে তালা দেওয়ার বিরোধিতা করে ৮২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে উপাচার্যকে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এসব প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেছেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি দাওয়া পূরণ ও রেজিস্ট্রার নিয়োগ করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। বর্তমান ভিসির মেয়াদ শেষ, নতুন ভিসিও নিয়োগ হয়ে গেছে। এখন একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী অফিস তালাবদ্ধ করে ভিসির মেয়াদের শেষ সময়ে এসে পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে চাইছে। তাদের উদ্দেশ্য নতুন ভিসির কাছ থেকে সুবিধা নেওয়া। ওই চিহ্নিত গোষ্ঠী সব সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অপরাজনীতি শুরু করে ভিসির মেয়াদ শেষ হলেই।  



সাতদিনের সেরা