kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ২৪ মে ২০২২ । ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২২ শাওয়াল ১৪৪৩  

হাতীবান্ধায় অনুমোদনহীন ক্লিনিকে সিজার, নবজাতকের মৃত্যু

ধামাচাপার চেষ্টা

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি   

২৩ জানুয়ারি, ২০২২ ১৬:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাতীবান্ধায় অনুমোদনহীন ক্লিনিকে সিজার, নবজাতকের মৃত্যু

টিনশেডের এই ক্লিনিকে সিজার করা হয়, যার কোনো অনুমোদন নেই

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অনুমোদনহীন 'হেলথ অ্যান্ড মেডিকেয়ার' নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ঐশি খাতুন নামে এক প্রসূতির সিজারের পর নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে অচেতন ঐশিকে ওই ক্লিনিকের একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। তাঁর সাথে কাউকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

ঐশি খাতুন উপজেলার সিংগীমারী ইউনিয়নের ধুবনী গ্রামের লাল স্কুল এলাকার সাহাদুল ইসলামের স্ত্রী।

গতকাল শনিবার মধ্যরাতে উপজেলার আমতলা বাজার এলাকার ওই ক্লিনিকে নবজাতক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তবে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় ওই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানায়, এই ক্লিনিকের কোনো কাগজপত্র নেই। তা ছাড়া এটা টিনশেডের একটি ভবন। এখানে অস্ত্রোপচারের অনুমতি থাকার কথা না।

জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে অসুস্থ অবস্থায় ওই ক্লিনিকে ঐশিকে নিয়ে আসেন তাঁর বাবা আব্দুর রশীদ। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাতে সিজারের জন্য অপারেশন রুমে নেওয়া হয়। সিজারের দুই ঘণ্টা পর নবজাতকের মৃত্যু হয়। নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার জবাব চাইলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।   

এ বিষয়ে ঐশির বাবা আব্দুর রশীদ বলেন, 'সিজারের আগে আমার মেয়ের আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। সেই রিপোর্টে নবজাতকটি সুস্থ ছিল। সিজারের দুই ঘণ্টা পর আমাদের জানানো হয় নবজাতকটি মারা গেছে। সিজারের আগে বন্ড সই দিতে হয়, আমরা সই দিয়েছি। তাই বাড়াবাড়ি করতে পারব না বলে জানিয়েছেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। তবে ক্লিনিকের লোকজন বলেছেন এটি একটি দুর্ঘটনা। তাই আপনাদের ক্লিনিকের খরচ বাবদ কোনো টাকা দিতে হবে না। '

এ বিষয়ে হেলথ অ্যান্ড মেডিকেয়ারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রবিউল আলম বলেন, 'নবজাতকটি পেটেই মৃত ছিল। আমরা সিজার করে মৃত নবজাতক বের করি। '

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাঈম হাসান নয়ন বলেন, 'ওই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে এখন পর্যন্ত কোনো কাগজপত্র জমা দেয়নি। যদি সমস্ত বৈধ কাগজপত্র ও চিকিৎসক থাকে তাহলে তারা সিজার করতে পারবে। তবে আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট যদি ভালো হয় তাহলে ওই নবজাতকের মৃত্যু হওয়ার কথা নয়। '    

এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা সিভিল সার্জন নির্মলেন্দু রায় বলেন, 'হেল্থ অ্যান্ড মেডিকেয়ারের কোনো কাগজপত্র আমাদের এখানে নেই। মনে হয় তারা এখনো অনুমোদন পায়নি। আর তাদের ক্লিনিক যদি টিনশেডের ঘর হয়, তাহলে সেখানে কখনোই অপারেশন থিয়েটার ও অপারেশন করা যাবে না। '

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, 'বিষয়টি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। '



সাতদিনের সেরা