kalerkantho

সোমবার ।  ১৬ মে ২০২২ । ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩  

আমরণ অনশনে শিক্ষার্থীরা

সিলেট অফিস ও শাবিপ্রবি প্রতিনিধি    

২০ জানুয়ারি, ২০২২ ০৪:০১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমরণ অনশনে শিক্ষার্থীরা

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পাসে গতকাল দুপুরে আমরণ অনশনে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ শিক্ষার্থী।

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। গতকাল বুধবার বিকেল ৩টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে গতকাল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে মানববন্ধন করেছে শিক্ষকদের একটি অংশ।

বিজ্ঞাপন

আরেকটি অংশ গত রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে শিক্ষার্থীরা রাজি হননি।

গতকাল সকাল থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে এই জমায়েত। এ সময় তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন, ‘যে ভিসি গুলি করে, সেই ভিসি চাই না’, ‘যে ভিসি বোমা ছোড়ে, সেই ভিসি চাই না। ’ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে ২৪ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরুর আগে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘আমরা আন্দোলন শুরু করার পর আমাদের শিক্ষকরা আমাদের পাশে দাঁড়াননি। তাঁরা এতটুকু সংবেদনশীল আচরণ দেখাননি। ’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থীরা। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সিলেট নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে শাবিপ্রবির অর্ধশতাধিক সাবেক শিক্ষার্থী অংশ নেন। জ্বলন্ত মোমবাতি হাতে নিয়ে সংহতি জানান তাঁরা।

সমাবেশ শেষে তাঁরা নগরীতে মিছিল বের করেন। মিছিলটি নগরীর প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণের মাধ্যমে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে। পরে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যায় তাদের সংহতি জানাতে।

এখনো সরেনি পুলিশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ক্যাম্পাস থেকে পুলিশ সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ক্যাম্পাসে গেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান। তবে গতকাল বুধবার পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিবৃতি : বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি তুলে ধরে নিজেদের বক্তব্য জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা গত রবিবার উপাচার্যের পথ আটকে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে উদ্যত হয়েছিলেন। এ সময় উপাচার্য ও তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রাণ রক্ষায় আইআইসিটি ভবনে আশ্রয় নেন।

শিক্ষকদের মানববন্ধন : আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ এনে গতকাল সকালে মানববন্ধন করেছেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ।  

এ সময় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক লায়লা আশরাফুন বলেন, ‘আমরা বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ধারণ করি, কোনো চাষাভুষা না যে আমাদের যা ইচ্ছা তাই বলবে। ’ গণমাধ্যমের সমালোচনা করে সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ আরফিন খান বলেন, ‘গণমাধ্যমগুলো আমাদের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তুলে ধরেছে। ’ বিকেল পৌনে ৩টায় শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন শুরুর আগে শিক্ষকদের অভিযোগের জবাব দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লোকজন তাঁদের নামে অকথ্য ভাষায় কথা বলছে। আমরা বলতে চাই, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকাকে কোনো ব্যক্তি কটূক্তি করলে তার দায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের ওপর বর্তায় না। কুরুচিপূর্ণ কিছু বলে থাকলে আমরা তার নিন্দা জানাচ্ছি। ’

শাবিপ্রবির সিন্ডিকেট নির্বাচন স্থগিত : ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের কারণে স্থগিত করা হয়েছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট নির্বাচন। গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘আগামী ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভা হওয়ার কথা ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ’

গত রাত পৌনে ৯টার দিকে কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল শিক্ষক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে যান। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একমত না হওয়ায় তাঁদের কথা শোনেননি আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী বাংলা বিভাগের মোজাম্মেল হক রাত ১০টার দিকে ও সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী দীপান্বিতা রাত ১১টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের অ্যাম্বুল্যান্সে করে নগরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁরা চিকিৎসাধীন।



সাতদিনের সেরা