kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

সেই দরপত্র ছিনতাইকারী ফরাজী এখনো অধরা (ভিডিও)

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:৫৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষ থেকে টেন্ডার বাক্স ভেঙে দরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার মূলহোতা আল আমিন ফরাজীসহ আরো চারজন এখনো অধরা। এই ঘটনার দুই দিন পার হয়েছে। আর পুলিশও হন্যে হয়ে তাদের খুঁজছে।  

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, পলাতকরা প্রতি মূহূর্তে স্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মুঠোফোনও বদল করছে।

বিজ্ঞাপন

এরই মধ্যে তাদের নাগাল থেকে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।  

এর আগে গত সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে রক্ষিত টেন্ডার বাক্স ভেঙে সবগুলো দরপত্র নিয়ে যান জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা ছাত্রলীগ আহবায়ক আল আমিন ফরাজী। এসময় তার সঙ্গে আরো পাঁচ যুবক ছিল। মতলব পৌরসভার পশ্চিম বাইশপুর এলাকার আলী আহমেদ ফরাজীর ছেলে এই আল আমিন ফরাজী।

এদিকে, বুধবার দুপুরে উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে আল আমিন ফরাজীকে। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জহির উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কাজে জড়িত থাকায় সংগঠনের পদ থেকে আল আমিন ফরাজীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
 
এদিকে, ঘটনার দিনই মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বাদী ছয়জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। সরকারি কাজে বাধা, ভাঙচুর ও ছিনতাই এসব নিয়ে দ্রুত বিচার আইনের ধারায় এই মামলা করেন তিনি।  

এই মামলার প্রধান আসামি হচ্ছেন, আল আমিন ফরাজী (৩৫), মহিউদ্দিন দেওয়ান (২৮), শরীফ পাটোয়ারী (৩৩), আফসার মির্জা (৩২), খোরশেদ আলম (৩০) ও মাহবুবু রহমান (৩৪)। এদের সবার বাড়ি মতলব পৌরসভায়। এরই মধ্যে পুলিশ মহিউদ্দিন দেওয়ান (২৮) নামে এক যুবককে ছিনিয়ে নেওয়া দরপত্রের কাগজপত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে রক্ষিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, আল আমিন ফরাজীর নেতৃত্বে এই ছয়জন নিচ থেকে দোতলায় উঠে। বারিন্দা পেরিয়ে সরাসরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করে। কিছু সময় পর দরপত্রের কাগজপত্র নিয়ে বেরিয়ে যায় তারা। তবে ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন না উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।  

ঘটনা সম্পর্কে টেন্ডার কমিটির সদস্য সচিব, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ২০২১-২২ অর্থবছরের গ্রামীণ সড়কের মাটি কাটার কাজের পাঁচটি প্যাকেজের দরপত্র আহবান করা হয়। তারই অংশ হিসেবে সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে টেন্ডার বাক্সে দরপত্র জমা নেওয়া হয়। ওই দিনই দুপুর ১টায় নির্ধারিত সময় তা সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে তিনি জোহরের নামাজ পড়তে বাইরে গেলে এই সুযোগে সেখানে দলবল নিয়ে প্রবেশ করেন আল আমিন ফরাজী।

মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়া জানান, টেন্ডার বাক্স ভেঙ্গে দরপত্র ছিনিয়ে নেওয়া মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। এই অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, পলাতকরা প্রতি মূহূর্তে স্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মুঠোফোনও বদল করছে। এরই মধ্যে তাদের নাগাল থেকে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিবাহিত হয়েও বিগত কয়েক বছর আগে মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটির আহবায়কের পদ বাগিয়ে নেন আল আমিন ফরাজী। পরে জেলা পরিষদের সদস্য পদেও নির্বাচিত হন তিনি। এরই মধ্যে এলাকায় বিশেষ বাহিনী গঠন করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, ভূমি দখল এবং টেন্ডারবাজি করে আলোচনায় ফিরেন আল আমিন ফরাজী।  

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন থেকে ২০১৮ পর্যন্ত তার প্রভাব ছিল গোটা মতলব জুড়ে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বেশকিছু দিন আত্মগোপনে থেকে আবারো স্বরূপে ফিরে আসেন তিনি। এরই মধ্যে মতলব বাজারের থানা সড়ক, পাশের খেয়াঘাট মিলিয়ে ২০টি দোকান, চাঁদপুর শহরের বাবুরহাটে একটি মার্কেট এবং মতলব পৌরসভায় একাধিক বাড়ির মালিক আল আমিন ফরাজী। এর মধ্যে পৌরসভার বাইশপুরে আলিশান থ্রিফ্লেক্স বাড়িও আছে।  



সাতদিনের সেরা