kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

কাশিমপুরের পানিশাইল

গার্মেন্ট শ্রমিককে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ ও টাকা আদায়, গ্রেপ্তার ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর    

১৮ জানুয়ারি, ২০২২ ১০:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গার্মেন্ট শ্রমিককে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ ও টাকা আদায়, গ্রেপ্তার ৫

প্রতীকী ছবি

গাজীপুরের কাশিমপুরের পানিশাইলে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গার্মেন্ট শ্রমিক। শুধু তা-ই নয়, ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ১০ হাজার টাকার জন্য ওই শ্রমিককে জিম্মি করে রাখা হয়। বিকাশে টাকা বুঝে নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। গত রবিবার রাতে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ পানিশাইলের আর কে টেক্সটাইলের পরিত্যক্ত আবাসিক ভবন এলাকায়।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় গতকাল সোমবার মামলার পর পুলিশ ধর্ষকসহ জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধর্ষণের ঘটনায় ওই শ্রমিকের এক সহকর্মীও জড়িত।  

গত মঙ্গলবার পানিশাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আবাসন প্রকল্পে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটল।   

নির্যাতিতার মামা জানান, কয়েক মাস আগে তার ভাগ্নির বিয়ে হয়েছে। দুই মাস আগে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার মদন থেকে চাকরির সন্ধানে গাজীপুরের কাশিমপুরের দক্ষিণ পানিশাইলে তার ভাড়া বাসায় এসে ওঠে মেয়েটি। তার বাসায় থেকেই স্থানীয় নর্দার্ন গার্মেন্টে সুইং অপারেটর পদে চাকরি নেন। কয়েক দিন আগে এক পুরুষ সহকর্মীকে বাসা খুঁজে দিতে অনুরোধ করেন তার ভাগ্নি। রবিবার গার্মেন্টে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ভাগ্নি বাসায়ই ছিলেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাসা খুঁজে দেওয়ার কথা বলে ভাগ্নিকে ওই সহকর্মী নিজের বোনের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে কথাবার্তা বলে অযথা সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। বাসায় ফেরার তাগাদা দিলে সন্ধ্যার দিকে ওই সহকর্মী মেয়েটিকে নিয়ে তার (মামার) বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু সোজা পথে না গিয়ে ঘুরিয়ে তাকে নির্জন পথে নিয়ে যেতে থাকেন সহকর্মী।  

সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে আরকে টেক্সটাইলের পরিত্যক্ত আবাসিক ভবনের কাছে ফাঁকা জায়গায় পৌঁছলে চার যুবক তাদের গতিরোধ করে। তাদের মধ্যে এক যুবক ভাগ্নিকে টেনে-হিঁচড়ে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। সহকর্মীসহ অন্য চারজন মোবাইল ফোন দিয়ে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। ধর্ষণ শেষে সহকর্মীসহ বাকিরা ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা এনে দিতে বলে। দিতে না চাইলে এবং পরে দেওয়ার কথা বললেও তারা তার ভাগ্নিকে জিম্মি করে রাখে। বাধ্য হয়ে ভাগ্নি টাকার জন্য তার বাবাকে ফোন দেয়। ধর্ষক ও সহযোগীদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে চাহিদামাফিক টাকা দিলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নির্যাতিতা শ্রমিককে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছাড়ার আগে এ ঘটনা প্রকাশ করা হলে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে আবারও শাসায় তারা। পরে বাসায় ফিরে মেয়েটি স্বজনদের ঘটনা খুলে বলেন। এ ঘটনায় বাদী হয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে কাশিমপুর থানায় মামলা করেন নির্যাতিতা।  

কাশিমপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার সময় যুবকদের কথাবার্তায় মেয়েটি ধর্ষকের নাম শুনেছে। মামলার পর অভিযান চালিয়ে ধর্ষকসহ পাঁচ আসামিকেই সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা