kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

পাবনার ভাঙ্গুড়া

রেলের জায়গা দখল করে বাড়ি, এবার সড়কে সিঁড়ি বানালেন ঠিকাদার

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি    

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ১৫:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রেলের জায়গা দখল করে বাড়ি, এবার সড়কে সিঁড়ি বানালেন ঠিকাদার

রেলের জায়গা দখল করে দোতলা ভবন নির্মাণ করে সমালোচিত হয়েছিলেন পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার একরাম আলী। গত বছরের জানুয়ারি মাসে সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের বিষয়ে প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করেছিল। এতেও ক্ষান্ত হননি ঠিকাদার একরাম। এবার ওই ভবনের দোতলায় উঠতে সড়ক দখল করে নির্মাণ করলেন সিঁড়ি।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, দুই বছর আগে ওই জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ শুরু করেন একরাম। এ সময় কয়েক দফা রেলের কর্মকর্তারা এসে বাধা দেন। পরে তাঁদের 'ম্যানেজ' করে দোতলা ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন ঠিকাদার। পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ডের পাশে এই ভবন নির্মাণের ফলে চারমাথা মোড়ে একটি বাঁকের সৃষ্টি হয়। যে কারণে এই মোড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে রেলের পশ্চিমাঞ্চলের কর্মকর্তারা গত বছরের জানুয়ারি মাসে অভিযান চালিয়ে ভবন মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কিন্তু এতেও থেমে থাকেননি একরাম। গত সপ্তাহে আবার ওই ভবনের দোতালায় ওঠার জন্য তিনি সড়ক দখল করে লোহার সিঁড়ি নির্মাণ করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা পৌরসভার কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করে। তবে রহস্যজনক কারণে পৌরসভার কর্মকর্তারা বিষয়টি চেপে যান।

আজ শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেলের জায়গা এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তা দখল করে দোতলা ভবন নির্মাণ করেছেন ঠিকাদার একরাম হোসেন। এতে ভবনের সামনে মারাত্মক বাঁকের সৃষ্টি হয়েছে। এই ভবনের নিচতলায় বাজাজ মোটরসাইকেলের শোরুম এবং দোতালায় কফিশপ রয়েছে। ভবনটিতে দোতলায় ওঠার জন্য ভেতরে কোনো সিঁড়ি নেই। তাই সড়ক দখল করে ভবনের বাইরের দিকে লোহার সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে। রাস্তার প্রায় ১০ ফিট জায়গা দখল করে এই সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে সড়কে চলাচলকারী যানবহন যেকোনো সময় এই সিঁড়িতে দুর্ঘটনার শিকার হবে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সিঁড়ি নির্মাণের সময় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা দায়িত্বে অবহেলা করে এখানে ঠিকাদারকে সেই নির্মাণের জন্য সুযোগ করে দিয়েছেন। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

এ বিষয়ে ঠিকাদার একরাম আলী বলেন, শখ করে ভবনের দোতলায় কফিশপ বসিয়েছি। তাই সেখানে ওঠার জন্য একটু সড়ক দখল করে সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের খুব একটা অসুবিধা হবে বলে মনে হয় না।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার কর্মচারী পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করতে বলেছিলাম। এর পরও যদি ওই সিঁড়ি নির্মাণ হয়ে থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা