kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বকশীগঞ্জে কেন্দ্র দখল নিয়ে সংঘর্ষ, গাড়িতে আগুন

জামালপুর প্রতিনিধি   

৫ জানুয়ারি, ২০২২ ২০:১৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বকশীগঞ্জে কেন্দ্র দখল নিয়ে সংঘর্ষ, গাড়িতে আগুন

পঞ্চম ধাপে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় পাঁচটি ইউপি নির্বাচনের মধ্যে মেরুরচর ইউনিয়নের একটি কেন্দ্র দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, ওসির গাড়ি ও তিনটি মোটরসাইলে অগ্নিসংযোগ, একটি গাড়ি ভাঙচুর এবং পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিপুলসংখ্যক রাবার বুলেট ছুড়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে মেরুরচর ইউনিয়নের মেরুরচর হাছেন আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালে এ সহিংসতার কারণে কেন্দ্রটি স্থগিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার বকশীগঞ্জের মেরুরচর ইউনিয়নের মেরুরচর হাছেন আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল থেকেই বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ ভোটারের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ চলছিল।

বিজ্ঞাপন

বেলা সোয়া ১টার দিকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিকের সমর্থকরা দলবল নিয়ে অবৈধভাবে সিল মেরে ভোট নেওয়ার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় প্রতিপক্ষ একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোয়ার হোসেনের সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বাধা দিতে গেলে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বেধে যায়। হামলাকারীরা এ সময় স্কুল ভবনের নিচতলার কেচিগেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের সময় নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রিজাইডিং অফিসার এবং আটটি বুথকক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। এতে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্সের কোনো ক্ষতি হয়নি।

উভয় পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা বিপুলসংখ্যক রাবার বুলেট ছোড়েন। এক পর্যায়ে হামলাকারীদের একাংশ পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা বকশীগঞ্জ থানার ওসির পিকআপে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ছাড়া পাশে থাকা নির্বাচনের কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভাঙচুর এবং নির্বাচনের কাজে বকশীগঞ্জ পৌরসভা থেকে দেওয়া তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার কিছুক্ষণ পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পৌঁছার আগেই আগুনে ওই তিনটি মোটরসাইকেলসহ ওসির গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

হামলায় বকশীগঞ্জ থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম, ওসি তদন্ত আব্দুর রহিম, পুলিশ কনস্টেবল আব্দুল আলিম ও মো. শাহজাহান আলী, আনসার সদস্য  মো. আলিম, মো. বিপুলসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ গুরুতর আহত হন। পুলিশের রাবার বুলেটের আঘাতে এবং উভয় পক্ষের সংঘর্ষে দুই প্রার্থীর অন্তত ২০ জন সমর্থক আহত হয়েছে। তবে পুলিশের ভয়ে তারা আত্মগোপনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।

এদিকে ভোটকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে পুলিশের গাড়ি পোড়ানো এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই হামলার খবর পেয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ, নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব, বিজিবি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্সে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ওসিসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এই সহিংস ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মেরুরচর হাছেন আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. আতাউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এই কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছিল। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা হামলা চালিয়ে নির্বাচনী মালামালের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স খোয়া যায়নি। তবে কেন্দ্রের মাঠে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। হামলাকারীরা আমাদের উদ্দেশ্যেও বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছুড়ে মারে। আমরা ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে আত্মরক্ষা করি। ' এই কেন্দ্রে ব্যাপক সহিংসতার কারণে জেলা নির্বাচন অফিসার ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে এই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দেওয়ানগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান রাসেল কালের কণ্ঠকে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই কেন্দ্রে কর্তব্যরত পুলিশকে বিপুল পরিমাণ রাবার বুলেট ছুড়তে হয়েছে। তবে ক ীপরিমাণ রাবার বুলেট খরচ হয়েছে তা এখনো নিরুপণ করা হয়নি। এ বিষয়ে পরে জানা যাবে। হামলায় গুরুতর আহত দুজন ওসিসহ অন্যান্য পুলিশ ও আনসার সদস্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রে হামলা, পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

বকশীগঞ্জের ইউএনও মুনমুন জাহান লিজা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ওই ভোটকেন্দ্রটির ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এ হামলার ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করা হবে বলে আমাকে জানানো হয়েছে। ' এ ছাড়া বাকি চারটি ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে বলেও জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা