kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নেত্রকোনা মেডিক্যাল কলেজ : তিন বছরেও হয়নি জমি অধিগ্রহণ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

২৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৭:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নেত্রকোনা মেডিক্যাল কলেজ : তিন বছরেও হয়নি জমি অধিগ্রহণ

নেত্রকোনা মেডিক্যাল কলেজ চালুর তিন বছর পরও জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। অস্থায়ী ক্যাম্পাসে পাঠদান কক্ষ, আবাসন সংকটসহ নানা সমস্যায় চলছে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা। কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীর পদও এখনো সৃষ্টি হয়নি। জমি অধিগ্রহণে ধীর গতির কারণে নেত্রকোনা আধুনিক আধুনিক সদর হাসপাতাল কমপ্লেক্সের ভেতর অস্থায়ী ব্যবস্থাপনায় কোন রকমে চলছে কলেজের কার্যক্রম।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, দীর্ঘ দিনের দাবির মুখে ২০১৮ সালে নেত্রকোনাবাসী প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে পান নেত্রকোনা মেডিক্যাল কলেজ। এরপর ১০০ শয্যার নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল কমপ্লেক্সে অস্থায়ী ভবনে শুরু হয় কলেজের কার্যক্রম। ২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারি প্রথম ব্যাচে ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে শুরু হয় কলেজের পথচলা। ২০২০ সনের জানুয়ারি মাসে ভর্তি হয় কলেজের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। ২০২১ সালে তৃতীয় ব্যাচে ভর্তি হয় আরো ৫০ জন শিক্ষার্থী। প্রতি বছর ৫০ জন করে ভর্তিও পর বর্তমানে তিন ব্যাচে রয়েছে মোট ১৫০ জন শিক্ষার্থী।

কলেজের শিক্ষার্থীরা জানায়, একটি অস্থায়ী ক্যাম্পাসে যে সব সুবিধা থাকার কথা তাও এখানে নেই। আবাসিক সংকটে লেখাপড়ার কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে। ক্যাম্পাসের ভেতর শিক্ষার্থীদের আলাদা রুম নেই। গণরুমে থাকতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত ক্লাসরুমও নেই। যারা ক্যাম্পাসের বাইরে ভাড়া বাসায় থাকে তাদের আরো বেশি সমস্যা। কলেজে মেয়ে শিক্ষার্থী শতকরা ৬৫ ভাগ। প্রথম ব্যাচের ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩ জনই মেয়ে শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় ব্যাচের মেয়ে শিক্ষার্থীরা শহরের বলাইনগুয়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকে। রাস্তায় রিকসা না পেলে হেঁটে আসতে হয় তাদের।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কলেজের জন্য নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের মৌজে বালি গ্রামে ২৭ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই জমিতে একাডেমিক ও আবাসিক ভবন, ৫০০ বেডের হাসপাতাল, নার্সিং কলেজসহ প্রয়োজনীয় ভবন নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কোয়ার্টার, নার্সেস কোয়ার্টারসহ কয়েকটি ভবন মেরামত করে চলছে কলেজের কার্যক্রম।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) নেত্রকোনা জেলার উপদেষ্টা শ্যামলেন্দু পাল বলেন, প্রতি বছরই ৫০ জন করে কলেজের শিক্ষার্থী বাড়ছে। দ্রুত কলেজের নিজস্ব ভবন বা অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি। তা না হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ও আবাসন সমস্যা আরো প্রকট হবে।

কলেজের অধ্যক্ষ ডা. শ্যামল কুমার পাল বলেন, কলেজের শুরুতে যতটুকু সমস্যা ছিল এখন আর তা নেই। অস্থায়ী ক্যাম্পাসে সব কিছুর সমাধান করেই কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কলেজে কত জন শিক্ষক থাকার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা বলব কীভাবে। এখনো তো শিক্ষকের পদই সৃষ্টি করা হয়নি।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, মেডিক্যাল কলেজের জন্য নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌজে বালি মৌজায় ২৭ একর জমি নির্ধারণ করে চূড়ান্ত করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে। খুব শিগগিরই জমি অধিগ্রহণ শুরু করা হবে।



সাতদিনের সেরা