kalerkantho

রবিবার । ৯ মাঘ ১৪২৮। ২৩ জানুয়ারি ২০২২। ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জায়গা জবরদখল করে উল্টো মামলা দিলেন দখলদার!

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি    

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ১২:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জায়গা জবরদখল করে উল্টো মামলা দিলেন দখলদার!

পাবনার চাটমোহরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দশ শতাংশ জমি দখল করে উল্টো স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করেছেন ময়েন উদ্দিন ময়লাল নামের এক ব্যক্তি। গত ৮ নভেম্বর গভীর রাতে স্কুলের সামনে টিনের ঘর ও পাটকাঠির বেড়া দিয়ে জায়গাটি তিনি জবরদখল করেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের ১৪৫ নম্বর শ্রীদাসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

স্কুলের জায়গা দখল করার পর ময়েন উদ্দিন গং পাবনার চাটমোহর উপজেলা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে স্কুলটির প্রধানশিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম, সভাপতি আবু সাইদসহ ৬ জনকে বিবাদী করে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ১১১১/২১ নম্বর মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞাপন

আদালত বিবাদীগণকে গত ২৪ নভেম্বর ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন। স্কুলের জায়গাটি প্রায় একমাস ধরে বেদখল থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জায়গাটি উদ্ধারে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

জানা গেছে, শ্রীদাসখালী গ্রামের জনৈক ওসমান গনির নিকট থেকে ১৯৯৪ সালে বিক্রয় কবলা দলিলমূলে স্কুল কর্তৃপক্ষ স্কুল সংলগ্ন দক্ষিণ পাশের এ জায়গাটি ক্রয় করে। স্কুল সংলগ্ন রাস্তার পূর্ব পাশে স্কুলের পাকা ভবন রয়েছে। এ পাকা ভবন সংলগ্ন দশ শতাংশ জায়গা (স্কুলের কেনা অংশ) দীর্ঘদিন ধরে নিজের দাবি  করে আসছিলেন ময়েন উদ্দিন গং। গত ৮ নভেম্বর গভীর রাতে ময়েন উদ্দিন ময়লাল গং জায়গাটি দখল করেন।

বিদ্যালয়টির সভাপতি আবু সাইদ জানান, পাকা ভবন সংলগ্ন বেদখল হওয়া দশ শতাংশ জায়গা স্কুলের। স্কুলের সপক্ষে কাগজপত্র সবই রয়েছে। এ সত্ত্বেও ময়েন উদ্দিন ময়লাল অবৈধভাবে জায়গাটি দখল করে নেন। এ ব্যাপারে আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে যথাসময়ে জানিয়েছিলাম।  

ময়েন উদ্দিন ময়লাল জানান, জায়গাটির সামনের অংশ দীর্ঘদিন ধরে আমরা ভোগদখল করে আসছি। এ জায়গাটি আমাদের। স্কুলের জায়গাটি পেছনে রয়েছে। বাটোয়ারা ছাড়াই আপনারা সামনের পুরো অংশের মালিক কী করে হলেন- এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মাহবুবুর রহমান জানান, আমি ইতিমধ্যে ওই স্কুলে গিয়ে আমি জায়গাটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে গিয়ে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সাথে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি দখলকৃত জায়গাটি স্কুলের নামে। এ বিষয়ে আমি ইউএনও মহোদয়ের সাথেও আলোচনা করেছি। যেহেতু প্রতিপক্ষ আদালতে অভিযোগ দিয়েছেন, সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্কুলের জায়গার সকল বৈধ কাগজ পত্রাদি কোর্টে প্রেরণের জন্য ওই স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।  

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলাম জানান, বেদখল হওয়ার পর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিষয়টি মৌখিকভাবে আমাকে জানিয়েছিলেন। আমি সংশ্লিষ্ট এলাকার সহকারী ভূমি উন্নয়ন কর্মকর্তাকে তদন্ত করে রিপোর্ট দাখিল করতে বলেছিলাম। এর মধ্যে যেহেতু ময়েন উদ্দিন গং আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন সেহেতু আদালতের মাধ্যমেই এটির নিষ্পত্তি হবে।



সাতদিনের সেরা