kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদে অসময়ে বৃষ্টি, কৃষকের কান্না

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

৭ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৮:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদে অসময়ে বৃষ্টি, কৃষকের কান্না

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদে কৃষকের রোপণকৃত আমন ধান ও বিভিন্ন প্রকারের শাক-সবজিসহ খেসারি ডালের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এ বছর আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের বুকভরা হাসি ছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় কৃষকদের সেই বুক ভরা হাসি কেড়ে নিয়েছে। জমিতে রোপা আমন ধানের ক্ষেতে পানি জমে হেলে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

এখন কৃষকরা বুকে চাপা কষ্ট নিয়ে শুধু ফসলের ক্ষেতের দিকে তাকিয়ে আছে।

বরগুনার আমতলীতে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে ও অসময়ে টানা ৩ দিন ধরে বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষকদের রোপণকৃত আমন ধান এবং খেসারী ডালসহ রবিশস্যের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এতে করে উপজেলার অনেক কৃষক মাঠে মারা পড়েছেন।  

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এ বছর উপজেলায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে খেসারি ডালের আবাদ হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদে অসময়ে ৩ দিনের টানা বর্ষণে ৫০০ হেক্টর জমির খেসারি ডালের ক্ষতি হয়েছে। শীতকালীন শাক-সবজি চাষ হয়েছে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে বৃষ্টির পানি জমে প্রায় ৫০ হেক্টর জমির শাক-সবজির ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ২৩ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হলেও ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদে টানা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় অনেক জায়গায় রোপা আমন ধানের গাছগুলো হেলে ক্ষেতে জমে থাকা পানিতে পড়ে অনেক কৃষকের সর্বনাস হয়েছে।   

সরেজমিনে উপজেলার বেশ কয়েকটি ঐরাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকদের ফলানো খেসারি ডালসহ বিভিন্ন রবিশস্যও ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, গত ৩ দিন (শনিবার থেকে সোমবার) পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাব ও টানা বৃষ্টির কারণে তাদের জমিতে ফলানো খেসারি ডালসহ বিভিন্ন প্রকার রবিশস্য পঁচে গেছে।

সদর ইউনিয়নের মধ্য আমতলী গ্রামের কৃষক আ. গনি ব্যাপারী জানান, তিনি এবছর ২ বিঘা জমিতে খেসারি ডাল চাষ করেছেন। টানা ৩ দিনের বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে তার সব খেসারি ডাল পঁচে গেছে।

উপজেলার পুর্বচিলা গ্রামের কৃষক হাবিব মিয়া, চাওড়া ইউনিয়নের কৃষক হাফিজ ও কুকুয়া ইউনিয়নের কৃষক জামাল মিয়া জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিতে আমাদের জমিতে রোপণকৃত পাকা ও আধাপাকা আমন ধান রবিবার রাতে হেলে পড়েছে। এতে তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। হেলে পড়া ধানগাছে থাকা অর্ধেক ধান বিনষ্ট হয়ে চিটা হবে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সি এম রেজাউল করিম বলেন, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ও সময়ে টানা ৩ দিনের বৃষ্টিতে কৃষকদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনে কৃষি বিভাগের আমাদের কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদেরকে এখন ধান ও মুগ ডাল রোপণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এখন সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণোদনা বা বিনামূল্যে বীজ বিতরণ করেন তাহলে কিছুটা হলেও কৃষকরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারতেন। তবে এই মুহূর্তে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা না দেখে সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।  



সাতদিনের সেরা