kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

শেরপুরের ঝিনাইগাতী

'মনোনয়ন পায় বিএনপির লোক, আ. লীগের রাজনীতি করে কী পেলাম?'

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি   

৭ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৬:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'মনোনয়ন পায় বিএনপির লোক, আ. লীগের রাজনীতি করে কী পেলাম?'

পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠেয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত ৩টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি, ছাত্রদল নেতা ও মাদক মামলার আসামি এবং বিএনপির পরিবারের সদস্যদের হাতে নৌকা তুলে দেওয়ায় এ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গেলে স্থানীয় নেতাকর্মীসহ দলের আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে উঠে আসে এসব তথ্য। এ সময় তারা বলেন, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করায় তারা হতাশ হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

 

জানা যায়, আগামী ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ৭ ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে ওই নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া কয়েকজন প্রার্থীকে নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা বিতর্ক। আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বিএনপি থেকে দলে নতুন আসা নেতা ও নানা কারণে বিতর্কিতদের মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূলে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।  

আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী জানান, উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ধানশাইল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদ্য বিলুপ্ত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শেরপুর জেলা জজকোর্ট এলাকা থেকে মদসহ আটক হয়ে হাজতবাস করা মাদক মামলার আসামি তৌফিকুর রহমান এনামুলকে। এতে সমালোচনার ঝড় উঠেছে ওই ইউনিয়নে। দলীয় তৃণমূলের নেতাদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ।  

ধানশাইল ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান বলেন, সরেজমিনে তদন্ত করে মনোনয়ন দিলে এমনটা হতো না। আজ বিএনপির লোক মনোনয়ন পায়। আমরা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে কী পেলাম? স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দাবি, দলীয় যেকোনো ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হোক।  

অপরদিকে হাতিবান্দা ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা জানান, হাতিবান্দা ইউনিয়নের গত নির্বাচনের নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী নাছির উদ্দিনের বাবা ও স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. ওবাইদুল ইসলামকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এতে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে বিতর্কের ঝড় ওঠে। এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন জানান, তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। তবে তার দলীয় কোনো পদ নেই। এসব প্রার্থী নিজেদের আওয়ামী লীগের বলে দাবি করলেও কেউ কেউ কবে থেকে আওয়ামী লীগ করেন, সেটিও বলতে পারেননি। তারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি দাবি করলেও তার স্বপক্ষে বৈধ কোনো কাগজও দেখাতে পারেননি।  

হাতিবান্দা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ওবাইদুল ইসলাম নিজেকে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মী হিসেবে দাবি করে বলেন, কাংশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতির ছেলে জহুরুল ইসলামকে দেওয়া হয়েছে মনোনয়ন। ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নেও পিতা গত বছর নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় এবার ছেলেকে দেওয়া হয়েছে দলীয় প্রতীক। স্বাক্ষর জাল করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসব প্রার্থীর প্রস্তাব কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান লেবু বলেন, এতে নৌকার সমর্থন কমে আসছে।  

এদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম মুঠোফোনে জানান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ রেজল্যুশন করে যে তালিকা দিয়েছে, সেটাই জেলা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। মনোনয়ন নিয়ে ঝিনাইগাতীর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি, বিতর্কিত ও বিদ্রোহীদের বাবা-ছেলেকে দেওয়া মনোনয়ন বাতিল করে দলের ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হোক। এ দাবিতে বিক্ষোভ করছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।   



সাতদিনের সেরা