kalerkantho

বুধবার । ১২ মাঘ ১৪২৮। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

'জাওয়াদ' আসার আগেই ৩ কোটি টাকার ক্ষতি

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৭:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'জাওয়াদ' আসার আগেই ৩ কোটি টাকার ক্ষতি

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলের আবহাওয়া। অশান্ত হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। শুক্রবার (৩ নভেম্বর) থেকে বৃষ্টি ও দমকা বাতাস বইছে। টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার জেলে পল্লীর আওতাধাীন চারটি চরের শুঁটকি তৈরির সব মাছ পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

এতে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শুঁটকি ব্যবসায়ীরা।

উত্তাল ঢেউয়ে টিকতে না পেরে শুঁটকি ও সাধারণ জেলেরা সাগর ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। সহস্রাধিক মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলার বর্তমানে আলোরকোল, নারকেলবাড়িয়া, শ্যালা, মাঝের কিল্লাসহ শুঁটকি উৎপাদনকারী চারটি চরের বিভিন্ন খালে অবস্থান করছে।

মাঝের কিল্লার শুঁটকি ব্যবসায়ী (বহদ্দার) চট্টগ্রামের মো. জাহিদ হোসেন ওরফে জাহিদ বহদ্দার রবিবার বিকেল ৩টার দিকে মুঠোফোনে জানান, বৃষ্টিতে চাতাল ও মাচার সব মাছ পচে গেছে। সাগরের অবস্থা খুবই খারাপ। ঝোড়ো বাতাস হচ্ছে। তিন দিন ধরে মাছ ধরাও বন্ধ রয়েছে। সাগরে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চরের বেশির ভাগ জেলের ঘরে পানি ঢুকে গেছে। এ অবস্থায় ক্ষতির পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়েছে চরের সব জেলে-মহাজন।

দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি দুবলার চরের টিম লিডার মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তিন দিনের বৃষ্টিতে শুঁটকি উৎপাদনকারী চারটি চরের কমপক্ষে তিন কোটি টাকার মাছ নষ্ট হয়েছে। এসব চরে এক হাজারেরও বেশি মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলার বিভিন্ন খালে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। মাছ নষ্ট হওয়া এবং মাছ ধরতে না পারায় বড় ধরনের লোকসানে পড়বে মহাজনরা। তবে শুঁটকি খাত থেকে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও জেলেদের ক্ষতির দিকটা কেউ দেখে না। এ ব্যাপারে বন বিভাগ বা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোথাও আবেদন করেও কোনো লাভ হয় না।

কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, গত কয়েক বছরের জলোচ্ছাসে চরের বালু মাটি ধুয়ে চর অনেক নিচু হয়ে গেছে। যার ফলে সামান্য দুর্যোগেও জেলেঘরে ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। যা পাঁচ বছর আগেও এমনটা হয়নি। আমি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দুবলার চরের টিম লিডার হিসেবে আছি। আমার অধীনে চারটি চরে ৮০জন সেচ্ছাসেবক রয়েছে। তারা দুর্যোগকালীন সংকেত প্রচার এবং প্রত্যেক জেলে ঘরে গিয়ে সবাইকে সতর্ক করছে।  

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা জেলে পল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রহ্লাদ চন্দ রায় বলেন, তিন দিন ধরে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। এতে শুঁটকির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে, মহাজনরা আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার ক্ষতির কথা বললেও এখন পর্যন্ত সঠিক হিসাব জানা সম্ভব হয়নি। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মাছ ধরার কোনো সুযোগ নেই। সাগরের বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে কূলে। চারটি চরের ১০ হাজার জেলে সবাই যার যার ঘরে অবস্থান করছে। পানির উচ্চতা প্রায় ৬-৭ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় বহু জেলেঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। সব জেলে-মহাজনকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা