kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

'৪ মাসের মধ্যে চেয়ারম্যান হবো' ঘোষণা দিয়ে বিজয়ীকে হত্যা করে চকেট জামাল

ভোলা প্রতিনিধি    

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৬:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'৪ মাসের মধ্যে চেয়ারম্যান হবো' ঘোষণা দিয়ে বিজয়ীকে হত্যা করে চকেট জামাল

ভোলায় দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় খোরশেদ আলম টিটু হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জামাল উদ্দিন চকেটকে (চকেট জামাল) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চকেট জামাল পুলিশের কাছে হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি নির্বাচনে পরাজিত হয়ে বিজয়ী চেয়ারম্যানকে হত্যা করে চেয়ারম্যান পদে বসার ইচ্ছা থেকেই এ হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে জানায় পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভোলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

আজ বরিবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার।

পুলিশ সুপার আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চকেট জামাল হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যার বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা পরবর্তী সময়ে তদন্তের কাজে সহায়তা করবে। চকেট জামাল নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর তার অনুসারীদের জানান দেন যে আগামী চার মাসের মধ্যে তিনি দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হবেন। সে অনুযায়ী তিনি বিজয়ী প্রার্থীকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকেন। গত ২৬ নভেম্বর সদ্য বিজয়ী চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন নান্নু একটি সভায় যোগ দিতে কর্মীদের নিয়ে মদনপুর ইউনিয়নে যান। সেদিন চকেট জামালও দুটি স্পিডবোট নিয়ে মদনপুর যান। পরে সেদিন বিকেলে চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন নান্নু ট্রলারযোগে ভোলায় ফেরার পথে নাছিরমাঝি ঘাটের কাছাকাছি এলে জামাল তার পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি স্পিডবোট দিয়ে এসে ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এ সময় ট্রলারটি স্পিডবোটের ওপর উঠিয়ে দিলে বোটটি ডুবে যায়। এতে স্পিডবোটে থাকা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা নদীতে পড়ে যান। পরে ট্রলারে থাকা লোকদের ঘাটে নামিয়ে দিয়ে পুনরায় চেয়ারম্যানের ২০-২৫ জন অনুসারী সন্ত্রাসীদের ধরতে যান। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে যুবলীগ নেতা খোরশেদ আলম টিটুর মাথায় গুলি লাগে। এতে তিনি আহত হলে তাকে ভোলা সদর হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  

এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত করা হয় পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জামাল উদ্দিন চকেটকে। এ অবস্থায় ঘটনার পর থেকে প্রধান আসামি জামাল উদ্দিন ঢাকায় পলাতক ছিলেন। গত শুক্রবার তাকে ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেতে গ্রেপ্তার করে শনিবার ভোলায় নিয়ে যাওয়া হয়। আজ রবিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও জানান পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃত জামাল হোসেন ওরফে চকেট জামালের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিভিন্ন থানায় ৩০টি মামলা রয়েছে।



সাতদিনের সেরা