kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সুন্দরবনের আরেক দুর্ধর্ষ বন্যপ্রাণী শিকারী তানজের বয়াতী গ্রেপ্তার

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ২২:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুন্দরবনের আরেক দুর্ধর্ষ বন্যপ্রাণী শিকারী তানজের বয়াতী গ্রেপ্তার

দুর্ধর্ষ সেই ৭০ বাঘ হত্যকারী হাবিব তালুকদার ওরফে বাঘ হাবিবের পর এবার ধরা পড়েছে সুন্দরবনের আরেক দুর্ধষ বন্যপ্রাণী শিকারী। তার নাম তানজের বয়াতী (৫৮)। এই শিকারীর নামে বন অপরাধের তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। শনিবার (৪ নভেম্বর) তাকে আদালতে চালন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে মৃত খবির উদ্দিন বয়াতীর ছেলে সাবেক বনদস্যু তানজের বয়াতীকে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার নামে বন্যপ্রাণী শিকারসহ বন অপরাধের ১৫টি মামলা রয়েছে বলে বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, দুর্ধর্ষ সেই বাঘ হাবিব ২৮ মে গ্রেপ্তার হওয়ার মাত্র ৬মাসের মাথায় এক সপ্তাহ আগে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে নতুন করে উদ্বেগেরে কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে বনবিভাগ ও পরিবেশ সচেতন মহলে। এই কুখ্যাত অপরাধী আবার বন্যপ্রাণী হত্যায় যুক্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান বলেন, তানজের বয়াতীর নামে বন অপরাধের তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মূলতবি ছিল থানায়। তাকে দীর্ঘদিন ধরে ধরার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু, তার বাড়ির পাশেই সুন্দরবন, বেশিরভাগ সময় সেখানে লুকিয়ে থাকতো। এর পর ওই এলাকায় সোর্স লাগিয়ে তাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হই। তার নামে বন অপরাধের বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

ওসি সাইদুর রহমান জানান, এর আগে গত ২৮ মে দুর্ধর্ষ বাঘ শিকারি হাবিব তালুকদার ওরফে বাঘ হাবিবকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার নামেও তিনটি বন মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। গ্রেপ্তারের পর বিভিন্ন মাধ্যমে ৬০ থেকে ৭০ টি বাঘ হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা যায় এই বাঘ হাবিরের বিরুদ্ধে।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. আব্দুল মান্নান জানান, তানজের বয়াতী নিজে একজন দুর্ধর্ষ শিকারী এবং শিকারিদের গড ফাদার। ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী নিধনের কাজে জড়িত। তার নামে হরিণ, কুমির, তক্ষকসহ বন অপরাধের ১৫টি মামলা রয়েছে। তার দলে ৭-৮ জন শিকারি রয়েছে। দলের প্রধান সহযোগী তার ছেলে কবির বয়াতীর নামে হরিণ শিকারের ৮টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তার সহযোগী মিজানুরের নামে হরিণ শিকারের ৯টি এবং ওবায়দুল ও ওহিদুলের নামে একটি করে বাঘ হত্যার মামলাসহ প্রত্যেকের নামে মামলা রয়েছে ৬টি করে।

এসও আব্দুল মান্নান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাঘ হাবিব জামিনে বেরিয়ে এসেছে। এটা বনবিভাগের জন্য উদ্বেগের বিষয়। যে কোনো সময় এই হাবিব আবার অপরাধ করতে পারে বলে আশঙ্কায় রয়েছি আমরা। তবে, শিকারিদের কঠোর নজরদারিতে রেখেছে বনবিভাগ। স্মার্ট টিমসহ বনকর্মীদের নিয়মিত টহল আরো জোরদার করা হয়েছে।

সুন্দরবন সহব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) কোষাধ্যক্ষ ফরিদ খান মিন্ট বলেন, তানজের বয়াতী গ্রেপ্তার হওয়ায় আমরা যতোটা শঙ্কামুক্ত, বাঘ হাবিবের জামিনে তার চেয়েও বেশি আতঙ্কিত। এরা দুজনই বনের জন্য ভয়ঙ্কর। হাবিব সিএমসির সভায় উপস্থিত হয়ে আর বন্যপ্রাণী শিকার করবে না বলে অঙ্গীকার করেও আবার অপরাধে যুক্ত হয়েছে। এদের প্রতি কারোরই বিশ্বাস নেই।

ফরিদ কান মিন্টু আরো বলেন, ব্রিটিশদের আইনে বন বিভাগ পরিচালিত হচ্ছে। যার ফলে দুর্ধর্ষ অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। বন অপরাধ কমাতে এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হলে বন আইনের সংস্কার জরুরি।



সাতদিনের সেরা