kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আ.লীগের পাঁচ প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

প্রতীক বরাদ্দের আগেই ফেসবুকে পোস্টার, প্রচার

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৭:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতীক বরাদ্দের আগেই ফেসবুকে পোস্টার, প্রচার

প্রতীক বরাদ্দের আগে তা প্রদর্শন করে নিজে ও সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নির্বাচনী প্রচার চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া অন্তত পাঁচ চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালায় এ ধরনের বিধান লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

আজ শনিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০ ইউনিয়নে আগামী ২৬ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল অনুযায়ী আগামী ৬ ডিসেম্বর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন আর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৭ ডিসেম্বর।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানান, বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব মোল্লা ওরফে তারা মোল্লা। তাঁর সমর্থক ‘সজিব মুন’ ও ‘সাইদুর রহমান সোহেল’ নামক পৃথক দুটি ফেসবুক আইডি থেকে তাঁর পক্ষে নৌকায় ভোট চেয়ে একটি পোস্টার পোস্ট দেওয়া হয়। গত ২৯ নভেম্বর ওই দুটি আইডি থেকে পোস্টটি দেওয়া হয়। ময়না ও গুনবহা ইউনিয়ন দুটিতে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী যথাক্রমে জেলা মৎসজীবী লীগের সদস্য পলাশ বিশ্বাস এবং উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামরুল ইসলাম নিজ নিজ ফেসবুক আইডি থেকে নিজের ছবি ও নৌকা প্রতীক যুক্ত করে যথাক্রমে গত ২৬ ও ২৭ নভেম্বর একই ধরনের পোস্টার পোস্ট করেন। রূপাপাত ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. মহব্বত আলীর পক্ষে তাঁর সমর্থক এএস রুবেল সিকদার গত ১ ডিসেম্বর এবং পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন আ.লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং দলের মনোনয়ন পাওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সোলায়মান মোল্লার পক্ষে গত ২ ডিসেম্বর সমর্থক সৈয়দ তারেক মো. আব্দুল্লাহ তাঁদের (সমর্থকদের) ফেসবুক আইডি থেকে নৌকার পোস্টার দিয়ে ওই প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে একই পোস্ট করেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ বি এম আজমল হোসেন জানান, নির্বাচনে নানা ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কাছে জবাব চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ‘বিনয়ের সাথে’ চিঠির জবাব দেন আবার এখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে পুনরায় বিধি লঙ্ঘন করেন। প্রতীক বরাদ্দের আগে ফেসবুকে পোস্টার প্রদর্শনে বিধি ভঙ্গ হলেও বিষয়টি নজরে আসেনি। খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়টি জানতে চাইলে বোয়ালমারী ইউনিয়নের আব্দুল ওহাব মোল্লা ওরফে তারা মোল্লা জানান, সজিব আমার সমর্থক হলেও সে ‘ছেলে মানুষ’। তাই হয়তো ভুল করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে। মো. মহব্বত আলী দাবি করেন, তাঁর সমর্থক যুবলীগের এক নেতা তাঁকে ‘ভালোবেসে’ পোস্টটি দিয়েছেন। তবে এটি বিধি লঙ্ঘন বলে তিনি স্বীকার করেন।

মো. সোলায়মান মোল্লার নামে পোস্ট দেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন। ময়না ইউনিয়নের পলাশ বিশ্বাস বলেন, মাঝে মাঝে আমার ফোনটি ছেলের কাছে থাকে। হইতো আমার ছেলে না বুঝে ফেসবুক আইডিতে পোষ্ট করেছে। পরবর্তীতে সকল ধরণের নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথ অনুসরণ করা হবে।  



সাতদিনের সেরা