kalerkantho

রবিবার । ৯ মাঘ ১৪২৮। ২৩ জানুয়ারি ২০২২। ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ক্রাইম পেট্রোল দেখে ইয়ামিনকে অপহরণ-হত্যা!

গ্রেপ্তার ৪

নরসিংদী প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৬:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রাইম পেট্রোল দেখে ইয়ামিনকে অপহরণ-হত্যা!

অপহরণ করে মুক্তিপণের টাকায় গেমিং ল্যাপটপ কিনতেই শিশু ইয়ামিনকে হত্যা করা হয়। ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রোল ও সিআইডি দেখে উদ্বুদ্ধ হয় অপহরণকরীরা। শিশু ইয়ামিন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী জামাল উদ্দিনের ছেলে। সে উত্তর বাখরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র ছিল।

বিজ্ঞাপন

এঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৪ ডিসেম্বর) ভোরে উত্তর বাখরনগর এলাকা থেকে সিয়াম ও রাসেলকে গ্রেপ্তারের পর দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, রায়পুরার উত্তর বাখরনগর এলাকার মো. নুরুল হকের ছেলে মো. সিয়াম উদ্দিন, পিরিজকান্দি এলাকার মো. কবির মিয়ার ছেলে মো. রাসেল মিয়া, উত্তর বাখরনগর এলাকার মৃত আসাদ মিয়ার ছেলে মো. সুজন মিয়া (২৪) ও মৃত রাজা মিয়ার ছেলে কাঞ্চন মিয়া (৫৪)।

পুলিশ জানায়, সিয়াম ও রাসেল দুই বন্ধু। গেমিং ল্যাপটপ দিয়ে ইউটিউবে গেম লোড করে দুজনে টাকা উপার্জন করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু গেমিং ল্যাপটপ কিনতে যে পরিমাণ টাকা দরকার তা তাদের কাছে নেই। ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রোল ও সিআইডি দেখে উদ্বুদ্ধ হয় অপহরণ করে ল্যাপটপ কেনার জন্য টাকা উপার্জনের। সে মোতাবেক গত ২৮ নভেম্বর সকাল ১০টায় উত্তর বাখরনগর মধ্যপাড়ার শিশু ইয়ামিনের বাড়ির পাশের দোকানের সামনে থেকে খেলার ছলে অপহরণ করে সিয়ামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে ইয়ামিনের মুখ, হাত পা বেঁধে বস্তায় ভরে রেখে স্ক্রিপ্টেডবায়া অ্যাপস ব্যবহার করে ভিপিএনের মাধ্যমে শিশু ইয়ামিনের মা সামসুন্নাহার বেগমের কাছে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে ওইদিন সন্ধ্যায় ইয়ামিনকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে সিয়ামের বাড়ির গোয়ালঘরের কারের ওপর বস্তাবন্দি লাশ রাখা হয়। ঘটনার ৪ দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে একটি ধানের বীজতলায় ফেলে আসে শিশু ইয়ামিনের অর্ধগলিত লাশ। গত শুক্রবার সকালে নিখোঁজের পাঁচদিন পর তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, গেমিং ল্যাপটপ কেনার টাকা জোগাতে শিশু ইয়ামিনকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। গেমিং ল্যাপটপ দিয়ে ইউটিউবে গেম লোড করে টাকা উপার্জন করা ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। আর এই হত্যার কৌশল রপ্ত করে ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রোল ও সিআইডি দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি।



সাতদিনের সেরা