kalerkantho

রবিবার । ৯ মাঘ ১৪২৮। ২৩ জানুয়ারি ২০২২। ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে ওয়াসা সেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৫:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে ওয়াসা সেরা

ঢাকা ওয়াসা সরকারি কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এর আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম স্থান লাভ করেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তির প্রতিবেদন ও প্রমান মূল্যায়নে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে সেবাদান প্রতিষ্ঠানটি প্রথম হলো।

আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা ওয়াসা ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে ঢাকা ওয়াসার চলমান কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানানো হয়।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান বলেন, ‘ঢাকা ওয়াসার মূল লক্ষ্য পরিবেশবান্ধব, টেকশই ও গণমূখী পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

বিজ্ঞাপন

এই লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর নিদের্শনায় ‘ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা কর্মসূচী’র আওতায় আমরা বিভিন্ন ধরণের কাজ করছি। ’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় ঢাকা ওয়াসা এখন রোল মডেল। তারা আমাদের কাছ থেকে পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে শিখতে চায়। বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা দৈনিক পানি উত্তোলন এবং উৎপাদন সক্ষমতা ২৭০ থেকে ২৭৫ কোটি লিটার। যা মোট চাহিদার ১০ থেকে ১৫ কোটি লিটার বেশি। এই পানির ৩৩ ভাগ ভূ-উপরিস্থ (নদী) উৎস থেকে পরিশোধন করে নেওয়া হচ্ছে আর ৬৭ ভাগ পানি ভূ-উপরিস্থ থেকে। ২০২৩ সাল নাগাদ ঢাকা শহরে সরবরহাকৃত পানির ৭০ ভাগ আসবে ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস থেকে। বাকী ৩০ ভাগ ভূ-গর্ভস্থ তথা গভীর নলকূপ থেকে। ’

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার ১৫৬টি পানির পাম্পে আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ এবং নজরদারি করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিকল্পনাধীন ১৪৫টি ডিএমএ (ডিস্ট্রিক্ট মিটার এরিয়া) এর মধ্যে ৭১টির কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট ডিএমএ এর কাজ চলছে। যা ২০২৩ সালে জুনের মধ্যেই শেষ করা হবে।

তাকসিম এ খান বলেন, ডিএমএ এমন একটি এলাকা ভিত্তিক পদ্ধতি বা পানি সর্ববরাহ ব্যবস্থা যা পানি সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কোন এলাকায় পানির স্বল্পতা দেখা দিলে পার্শ্ববর্তী ডিএমএ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানির ইমপোর্ট হবে অথবা উদ্বৃত্ত বা অতিরিক্ত হলে পার্শ্ববর্তী ডিএমএ তে এক্সপোর্ট হবে। ’

গ্রাহকদের সুবিধার কথা বিবেচনায় সেবাদান প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ওয়াসা ই সর্বপ্রথম কাস্টমার সার্ভিস চালু করেছে উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, ‘১৬১৬২ এই নম্বরে কল করে ওয়াসার গ্রাহকরা নিজেদের সমস্যার কথা জানিয়ে ৯৮শতাংশ সমাধান পাচ্ছেন। বাকী দুই থেকে তিন ভাগ বিভিন্ন কারণে বা যোগাযোগ ঠিকমতো না হওয়াতে হচ্ছে না। এটিকে আমরা শতভাগে নিয়ে যাবো। রাজধানীর যানজটের কথা চিন্তায় রেখে পাম্প ব্রেকডাউন হলে তা সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার মধ্যে চালু করার জন্য তিনটি সাব অফিস চালু করা হয়েছে। এছাড়াও পানির মান ঠিক রাখা এবং নজরদারির জন্য আরো দুটি সাব অফিস খোলা হয়েছে।

এই সময় জানানো হয়, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার নির্মাণ প্রকল্প, ফেজ-৩ এর প্রস্তুতিমূলক কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি শেষ করা গেলে দৈনিক আরো ৪৫ কোটি লিটার পানি শোধন করে নগরীতে সর্বরাহ করা যাবে। এচাড়াও কয়েকটি দেশি-বিদেশী সংস্থার আর্থিক সহায়তায় মেঘনা নদী থেকে পানি এনে শোধনের জন্য ‘গন্ধবপুর পানি শোধনাগার প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যমে নগরীতে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।



সাতদিনের সেরা