kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ফেসবুকের কল্যাণে শেষ বয়সে ‘স্বপ্নের ঘর’ পেলেন মুছা মন্ডল

বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:৫৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ফেসবুকের কল্যাণে শেষ বয়সে ‘স্বপ্নের ঘর’ পেলেন মুছা মন্ডল

বাবা, স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি যে শেষ বয়সে চটের ঘর থেকে স্বপ্নের রঙিন ঘর পাবো। ঘর পেয়ে তৃপ্তির হাসিতে এ কথা বলছিলেন মুছা মন্ডল।

দিন শেষে এখন আর চটের বেড়া দেওয়া মাটির বিছানায় ঘুমাতে হবে না তাকে। ১৬ বছর আগে স্ত্রীকে হারিয়ে একাকি জীবন চালিয়ে যাওয়া মুছা মন্ডল এখন প্রতিদিন রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন। শুধু ঘরই নয়, থাকছে লেপ-তোশক, চৌকি, শীতের পোশাক, জায়নামাজ, খাদ্যসামগ্রী, টিউবওয়েল ও নগদ ৭ হাজার ৫০০ টাকা।

এছাড়াও মুছা মন্ডলের জন্য মাসিক কানাডা প্রবাসী এক ভাই ৩ হাজার করে টাকা পাঠাবেন।

ঘরসহ সব কিছু পাওয়ার আনন্দে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের চানমেটুয়ানী গ্রামের মুছা মন্ডলের চোখে মুখে আনন্দের হাসি। ঘর পেয়ে কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করায় মুছা বলেন, ‘আমি নিঃসন্তান চটের বেড়া দিয়ে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছি। স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি যে, আমি একখানা নতুন রঙিন ঘর পাবো। এই বয়সে এত সুন্দর ঘরে থাকতে পারব। আমি ভীষণ খুশি হয়েছি ঘর, টিউবওয়েলসহ সব কিছু পেয়ে। দোয়া করব যতদিন বেঁচে থাকব আপনাদের সবার জন্য।’

মামুন বিশ্বাস বলেন, সরেজমিনে চটের ঘরটি দেখে নিজেদের খুব অপরাধী মনে হচ্ছিল। সব কিছু দেখে মুছা মন্ডলের বিস্তারিত লিখে ফেসবুকে পোস্ট দেই। ফেসবুকের কল্যাণে সংগ্রহীত ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে খুব দ্রুত ঘর নির্মাণ কাজ শেষ করেছি। আসলে আমরা সবাই যদি যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসি তাইলে আমাদের সমাজে অবহেলিত কোনো মানুষ থাকবে না। আমাদের সবাইকে সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসা দরকার।

তিনি আরো বলেন, আমি শুধুমাত্র চেষ্টা করি ফেসবুক বন্ধুরা এগিয়ে আসে বলেই প্রতিটি মানবতা কাজের জয় হয়।



সাতদিনের সেরা