kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

এমপির বাড়ি গিয়ে নৌকার বিপক্ষে অবস্থানের জানান দিলেন নেতাকর্মীরা

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি    

৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ১২:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এমপির বাড়ি গিয়ে নৌকার বিপক্ষে অবস্থানের জানান দিলেন নেতাকর্মীরা

পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মকবুল হোসেনের বাসভবনে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হেদায়েতুল হকের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কয়েক শ নেতাকর্মী স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মকবুল হোসেনের ভাঙ্গুড়া বাজারের বাসভবনে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মধুর পক্ষে স্লোগান দিয়ে সমর্থন জানান। 

সূত্র জানায়, এরপর সংসদ সদস্য দলীয় নেতাকর্মীদের নৌকার পক্ষে নির্বাচন করতে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন। এ নিয়ে সংসদ সদস্যের সঙ্গে ইউনিয়নের প্রবীণ নেতাকর্মীদের প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা চলে। আলোচনায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী হেদায়েতুল হকের বড় ভাই ও উপজেলা চেয়ারম্যান বাকি বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক আজাদ খান উপস্থিত ছিলেন। তবে নেতাকর্মীরা নৌকার পক্ষে নির্বাচন করতে রাজি হননি বলে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে বর্তমান চেয়ারম্যান হেদায়েতুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক তিনবারের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম মধু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান বাদশা ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মজনুর রহমান চেষ্টা চালান। কিন্তু আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত না থাকলেও ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমির প্রধান শিক্ষক হেদায়েতুল হক নৌকা প্রতীক পান। এতে বিষয়টি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। এ অবস্থায় দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত তিনজন প্রার্থী বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। এতে তৃণমূল পর্যায়ের অধিকাংশ দলীয় নেতাকর্মী জাহাঙ্গীর আলম মধুর পক্ষ নেন। 

এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের আগামী ৬ তারিখের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ শুরু করেন। ফলে উপজেলা আওয়ামী লীগের এমন চাপ প্রয়োগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে ইউনিয়নের ভেড়ামারা বাজারে জাহাঙ্গীর আলম মধুর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা সংসদ সদস্যের বাসায় গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান জানান দেন।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুস সাত্তার বলেন, হেদায়েত মাস্টার একজন প্রধান শিক্ষক। তিনি রাজনীতি করেন না। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাকে নেতা হিসেবে মানেন না। তার পরও কেন তিনি নৌকা পাবেন? তাই আমরা তার পক্ষে নির্বাচন না করে একটানা তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা মধুর পক্ষে নির্বাচন করছি।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির লিটন বলেন, জনমত জরিপে জাহাঙ্গীর আলম মধুর চেয়ে অনেক পিছিয়ে নৌকার প্রার্থী হেদায়াতুল হক। তাই তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবির মুখে মধুর নির্বাচন করছি। 

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ আলী বলেন, ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর চেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী মধু অনেক জনপ্রিয়। তাই আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা মধুকে দল থেকে বহিষ্কারের হুমকি দিলেও তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাকে সমর্থন দিচ্ছেন। তাই তৃণমূলের সিদ্ধান্তে আমরা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আবুল হাসেম বলেন, পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর আলম মধুর কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রার্থী সিলেকশনে দল ভুল করলেও তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভুল করতে রাজি নয়।

ইউনিয়নের ৩ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাদল খান বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কোনোভাবেই নৌকার প্রার্থীকে এই ইউনিয়নে জেতাতে পারবে না। তাই বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষ নিয়েছি।


 



সাতদিনের সেরা