kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যু; সহকর্মীদের বিক্ষোভ, তদন্ত কমিটির অপারগতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা   

২ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৭:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যু; সহকর্মীদের বিক্ষোভ, তদন্ত কমিটির অপারগতা

ছাত্র নামধারী দুর্বৃত্তদের হাতে অপমানিত ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যু হয়েছে বলে শিক্ষক সমিতি অভিযোগ করেছে। তারা বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান ও সমাবেশ করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দায়ীদের স্থায়ী বহিষ্কার ও তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে এ ঘটনায় কুয়েট প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির দুই সদস্য দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে।

কুয়েট উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন জানান, মঙ্গলবারের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির দুজন সদস্য দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি তারা লিখিতভাবে জানিয়েছেন। এই বিষয়টি ছাড়াও শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়েছে।

প্রফেসর সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আরিফুল ইসলাম। অন্য দুজন সদস্য হলেন- সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. আতাউর রহমান ও ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর কল্যাণ কুমার হালদার। এর মধ্যে প্রফেসর কল্যাণ এবং প্রফেসর আরিফুল ইসলাম দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ‘দুর্বার বাংলা’র সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেড় শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষকরা কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতিবাদসভায় অংশ নেন। সভা শেষে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। 

স্মারকলিপিতে শিক্ষকরা এ ঘটনার জন্য দায়ী ছাত্র নামধারী দুর্বৃত্তদের স্থায়ী বহিষ্কার ও আইনের আওতায় তাদেরকে সোপর্দ করা, মৃত শিক্ষকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক কোটি টাকা প্রদান করা, ক্যাম্পাসকে ছাত্ররাজনীতিমুক্ত করার দাবি জানান।

গত ৩০ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে প্রফেসর সেলিম নিজ বাড়ির বাথরুমে হার্ট অ্যাটাকে অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে বাথরুমের দরজা ভেঙে বের করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার আগে ক্যাম্পাসে একদল ছাত্রলীগ কর্মী তাঁকে তাঁর কক্ষে অবরুদ্ধ করে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।



সাতদিনের সেরা