kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

গাছ কেটে সড়কে ব্যারিকেড, ৪৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১ ডিসেম্বর, ২০২১ ২২:১৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গাছ কেটে সড়কে ব্যারিকেড, ৪৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সারা দেশে তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কক্সবাজারের চকরিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ শেষে একটি কেন্দ্রের ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে। এমনকি ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের গাড়ি গতিরোধ করতে ব্যাপক গুলি ছুঁড়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। এ সময় গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া তাদের বহনকারী গাড়িটি থামিয়ে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টার অংশ হিসেবে গাছ কেটে দুই স্থানে ব্যারিকেডও সৃষ্টি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এই পরিস্থিতিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি বিশেষ বাহিনীর সদস্যরাও ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, এ সময় চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেনকে ওই বাহিনীর সদস্যরা ব্যাপক পিটুনি দেয় এবং তাকে অস্ত্রসহ আটক করে হ্যান্ডক্যাপ পরিয়ে গাড়িতেও তুলে ফেলা হয়। কিন্তু পথিমধ্যে অদৃশ্য শক্তির ইশারায় চকরিয়ার লক্ষ্যারচর এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয় এই ঘটনার মূল হোতাকে।

ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বহনকারী গাড়ির গতিরোধ করে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা, তাদের গাড়ি ভাঙচুর, উপর্যপুরি গুলি ছুঁড়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির দায়ে চেয়ারম্যান মক্কী ইকবালকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছিল বলে শুনেছেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ। তবে ঘটনার সময় তিনি (ইউএনও) অন্য ইউনিয়নের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে সেই ঘটনার দিকে দৃষ্টি দিতে পারেননি। অবশ্য এই ঘটনার দায়ে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসারকে থানায় মামলা করতে বলা হয়েছিল চেয়ারম্যান মক্কীকেসহ আসামী করে। তবে সে রহস্যজনক কারণে মামলায় আসামী হওয়া থেকে বাদ পড়ে যায়।

উল্লেখ্য, ভোট গণনা শেষে সন্ধ্যার পর খিলছাদক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার একেএম শাহাবুদ্দিনসহ ভোটগ্রহণকারী অন্যান্য কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ গাড়ির গতিরোধ করে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টাসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। এই ঘটনায় প্রিজাইডিং অফিসার বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৩০ জনকে আসামী করে মামলা রুজু করেছেন থানায়।

সেদিন প্রাণ নিয়ে জীবিত ফিরতে পেরে শোকরিয়া জানিয়ে প্রিজাইডিং অফিসার একেএম শাহাবুদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, সেদিন ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মক্কী ইকবালের নেতৃত্বে তার সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদেরকে লক্ষ্য করে ব্যাপক গুলি ছুঁড়ে। দুই স্থানে সড়কের গাছ কেটে এবং গাছের গুঁড়ি ফেলে বার বার আমাদের গতিরোধ করে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে তারা। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে আমার নির্দেশে পুলিশ কয়েকরাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এর পরও সে বেপরোয়াভাবে আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিশেষ একটি বাহিনীর সদস্যরা মক্কী ইকবালকে অস্ত্রসহ আটক করে। কিন্তু একঘন্টা পর সে না-কি ছাড়া পেয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, এসব ঘটনায় থানায় রুজুকৃত মামলার এজাহারে আসামির ঘরে সরাসরি তার নাম উল্লেখ করতে পারিনি বিশেষ চাপে। এর পরও মামলার এজাহারের বর্ণনায় তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ওই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুইজন চেয়ারম্যান প্রার্থীও এমন অভিযোগ করেছেন। চশমা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আফজালুর রহমান চৌধুরী দাবি করেছেন, ঘোড়া প্রতিকের প্রার্থী মক্কী ইকবাল হোসেন ও অপর এক প্রার্থী ভোটেরদিন তাদের বাহিনী দিয়ে তিনটি কেন্দ্রে তার ভোটারদের বাধা প্রদান করেন। বিশেষ করে দুটি ওয়ার্ডের ভোটগ্রহণ চলাকালে বেশ কয়েকবার পাল্টা ধাওয়া হয় এবং জোরপূর্বক ব্যালটে সিল মারে। এসব বিষয়ে আমি তিন কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচন দেওয়ার জন্য চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটানিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছি।

তবে শপথ করে এসব অভিযোগ একেবারে সত্য নয় বলে দাবি করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেন। অবশ্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে মারধর করার বিষয়টি সত্য এবং তাকে অস্ত্রসহ কেউ আটক করেনি বলেও দাবি করেন তিনি। ইউপি সদস্য (মেম্বার) প্রার্থীদের মধ্যে সৃষ্ট ঘটনায় তাকে অহেতুক জড়ানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি মো. ওসমান গণি বলেন, ‘ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে ভোট কেন্দ্র থেকে উপজেলা সদরে আসার পথে সড়কে ব্যারিকেড, ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা, গাড়ি ভাঙচুরসহ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রিজাইডিং অফিসার বাদী হয়ে মামলা রুজু করেছেন। আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। অস্ত্রসহ মক্কী ইকবালকে বিশেষ একটি বাহিনীর সদস্য কর্তৃক আটক করার বিষয়টি তিনিও শুনেছেন। তবে সেই বাহিনী পরবর্তীতে থানা পুলিশকে কিছুই জানায়নি। ’



সাতদিনের সেরা