kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

শিক্ষকের 'অনাকাঙ্ক্ষিত' মৃত্যু; উত্তাল কুয়েটে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা   

১ ডিসেম্বর, ২০২১ ২২:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষকের 'অনাকাঙ্ক্ষিত' মৃত্যু; উত্তাল কুয়েটে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ

প্রশাসন ভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি : সংগৃহীত

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। তার মৃত্যুকে অস্বাভাকিক মৃত্যু দাবি করে বুধবারও সারাদিন বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে ওই শিক্ষকের মৃত্যু হয়।  

ক্যান্টিন পরিচালনাকে কেন্দ্র করে একদল উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী শিক্ষকের সাথে দুর্ব্যবহার করলে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।

বিজ্ঞাপন

ক্যাম্পাস থেকে বাসায় ফিরে বাথরুমে গেলে সেখানেই তাঁর হার্ট এটাক হয় এবং মৃত্যুবরণ করেন বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর জন্যে দায়ীদের শাস্তি দাবি বুধবার দিনভর প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে তারা। এ সময় একাডেমিক সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে কুয়েক শিক্ষক সমিতির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তে এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর জন্যে দায়ীদের শাস্তি দাবি করা হয়েছে, এই দাবি পূরিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করারও দাবি উঠেছে।

এদিকে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেছে যাদেরকে ওই শিক্ষকের সঙ্গে দুর্ব্যাবহার করতে দেখা গেছে তাদের সকলকেই বিশ্ববিদ্যালয় হতে বহিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি এই মৃত্যুর জন্যে তাদেরকে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী ৫ দিনের মধ্যে জমা, তদন্ত কমিটির সদস্য পরিবর্তন করে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা, তদন্ত সদস্যদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা, তদন্ত কমিটির সদস্যদের তালিকা নোটিশ বোর্ডে টানানোসহ কয়েকটি দাবি তোলে। তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় তারা অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের আজীবন ছাত্রত্ব বাতিলসহ বহিষ্কার, নিহত শিক্ষকের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া, প্রতিটি হলের সকল অংশ সিসিটিভির আওতায় আনা, প্রতিটি বিভাগের শিক্ষকদের নিরাপত্তায় সিকিউরিটি গার্ড নিযুক্ত করতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানায়।

কুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রতিক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুতে আমরা স্তব্ধ হয়ে পড়েছি। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে এ ঘটনার তদন্ত করা হবে। এরপর প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।  

কুয়েটের জনসংযোগ কর্মকর্তা মনোজ কুমার মজুমদার কালের কণ্ঠকে জানান, ড. রজিবুল আহসানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্টের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  



সাতদিনের সেরা