kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সিরাজগঞ্জের যমুনাতীর

বালু উত্তোলন ও পরিবহন, হুমকিতে তীর রক্ষা প্রকল্প

কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৯:২৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বালু উত্তোলন ও পরিবহন, হুমকিতে তীর রক্ষা প্রকল্প

বালি উত্তোলন ও পরিবহনে নেই কোন নিয়মের বালাই। গড়ে উঠছে অনুমোদনহীন ২৫ টির মতো বালি উত্তোলন পয়েন্ট। এদিকে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় মারা গেছেন একজন। অতিরিক্ত বালু বোঝাই ট্রাকের অবাধ চলাচলে এলজিইডর করা সড়কগুলোর এখন বেহাল অবস্থা।

বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জের যমুনাতীরবর্তী কাজিপুর উপজেলার বালুর ইজারাদারগণ শর্ত ভঙ্গ করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বিনা বাধায়।  

কাজিপুর উপজেলা ভূমি অফিসসূত্রে জানা গেছে, এ বছর সরকারিভাবে তিনকোটি টাকায় কাজিপুরের বালুমহাল ইজারা হয়। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে মেঘাই গ্রামের আব্দুল আওয়াল ইজারা নেন। এসময় তিনি কাজিপুর ইউনিয়নের মধ্যে তেইশটি বালুর পয়েন্টের নাম উল্লেখ করে ইজারা নেন। শর্ত মোতাবেক নদীতীরের প্রায় পাঁচশ ফুটের মধ্যে কোন বালু রাখা এবং বিতরণ করা যাবে না। কিন্তু এর কোন শর্তই মানা হয়নি।  

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে নির্দিষ্ট মৌজার পরেও চলছে বালু উত্তোলন ও পরিবহণ। উত্তরে ঢেকুরিয়া থেকে দক্ষিণে শুভগাছা পর্যন্ত তিন ইউনিয়ন মিলে বালু উত্তোলন এবং বিতরণ কাজ করছেন ইজারাদারের লোকজন। এক নামে ইজারা নিয়ে তিনি কমপক্ষ্যে পঞ্চাশজনকে সাবলিজ দিয়েছেন। শর্ত ভঙ্গ করে তারা আরো ২৫ টি পয়েন্ট খুলে ব্যবসা করছেন। এমনকি ঢেকুরিয়া ইকোপার্ক থেকে মেঘাই থানা পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার ওয়াপদা বাধের খাদ পুরোপুরি বালুখোকোদের দখলে চলে গেছে। ওই বালু তীর সংরক্ষণ কাজের ব্লকের উপর দিয়ে পরিবহণের ফলে চরম ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে তীর সংরক্ষণ এলাকা।  

এরই মধ্যে গত অক্টোবর মাসে দুই দফায় ঢেকুরিয়ায় তীর সংরক্ষণ কাজের বেলমাউথে ধস নামে। এছাড়া ঢেকুরিয়া থেকে ওয়াপদা বাধ দিয়ে ট্রাকযোগে এই বালি পরিবহণের ফলে ইতোমধ্যে পাকা বাধটির পিচ, খোয়া উঠে  যাতায়াতের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ছয় থেকে দশ চাকার ট্রাকযোগে বালি উপজেলার মেঘাই থেকে সোনামুখী, ঢেকরিয়া থেকে ধুনট, সিমান্তবাজার থেকে সিরাজগঞ্জ. মেঘাই থেকে উপজেলা হয়ে সিরাজগঞ্জে চলাচল করে। এরফলে মেঘাই থানা থেকে সোনামুখী পর্যন্ত দশকিলোমিটার পাকা রাস্তার পিচ, খোয়া, পাথর উঠে খানা খন্দকে পরিণত হয়েছে।  

রাস্তার অবস্থা বেগতিক বুঝে কাজিপুর পৌরসভা আলমপুর চৌরাস্তা থেকে সোনামুখী পর্যন্ত রাস্তার প্রবেশপথ পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে উপরে পাইপ পুঁতে দিয়েছে যাতে করে বালিবাহী ভারী যান চলাচল করতে না পারে। বালুবাহী ট্রাকগুলো বেপরোয়াভাবে চলাচলের কারণে ঘটছে অনেক দুর্ঘটনা। গত সেপ্টেম্বর মাসে ঢেকুরিয়া হাটের নিকট বালিবাহী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা গেছে এক যুবক। অতিরিক্ত বালির ট্রাক চলাচলে শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কাজিপুরের পাকা রাস্তাগুলোর একেবারে বেহাল অবস্থা।  

এদিকে বালি উত্তোলন এবং পরিবহনের ফলে তীর সংরক্ষণ এলাকায় ধস নামছে বলে জানান সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারি প্রকৌশলী হায়দার আলী। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান,  অনিয়ন্ত্রিত বালি উত্তোলন এবং পরিবহনের কারণে প্রকল্প এলাকায় ধস দেখা দিচ্ছে। তিনি জানান, বালি বোঝাই নৌকা ঘাটে এসে ভিড়ে। এসময় নৌকা আটকানোর জন্য লোহার রড অথবা ত্রিফলা দিয়ে জিওব্যাগ ফুটো করা হয়। পরে বৃষ্টি অথবা অন্যকারণে ধীরে ধীরে ওই ব্যাগ থেকে বালি সরে যেতে যেতে একসময়  ধস নামে।   

এছাড়া এই বালু পরিবহনের জন্যে মাঝে মধ্যেই ট্রাক সরাসরি সংরক্ষণ প্রকল্প এলাকায় ঢুকে পড়ছে। ফলে এই সর্বনাশ হচ্ছে। এছাড়া ওয়াপদা বাধের ঢালে লাগানো বনবিভাগের গাছগুলো বালি উত্তোলনকারিরা নিজেদের সুবিধামতো কাটার কারণেও ধস নামছে বলে তিনি জানান।  

এ বিষয়ে ইজারাদার আব্দুল আওয়াল জানান, শর্তের বাইরে পয়েন্ট নেই। নিয়ম মেনেই সব চলছে।  

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ডঃ ফারুক আহম্মদ গত সোমবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে জানান, ‘এখান থেকে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে। ইজারাদারগণ শর্ত মেনে উত্তোলন ও পরিবহণ করবেন। এর ব্যত্যয় ঘটলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হবে। শর্ত ভঙ্গের কারণে ইজারা বাতিলও করা হতে পারে। ’



সাতদিনের সেরা