kalerkantho

রবিবার । ৯ মাঘ ১৪২৮। ২৩ জানুয়ারি ২০২২। ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

পূর্বধলায় চেয়ারম্যান পদে নৌকাসহ ২০ প্রতিদ্বন্দ্বী জামানত হারালেন

বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি    

১ ডিসেম্বর, ২০২১ ১২:৪৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পূর্বধলায় চেয়ারম্যান পদে নৌকাসহ ২০ প্রতিদ্বন্দ্বী জামানত হারালেন

গত ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত একজনসহ ২০ প্রতিদ্বন্দ্বী তাদের জামানত হারিয়েছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের ওই প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ৩৫৯ ভোট। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা ২০১০-এর ৪৪-এর ৩ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনে ভোটারদের দেওয়া মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।  

জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ নভেম্বর পূর্বধলা উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনে মাত্র ২টিতে জয় পান আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। বাকি ৮টি চলে যায় আওয়ামী লীগের কথিত বিদ্রোহীদের (স্বতন্ত্র) দখলে। এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোট ৫০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় ২০ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

জামানত বাজেয়াপ্ত চেয়ারম্যান পদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন- পূর্বধলা সদর ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মো. আব্দুর রাশিদ (হাতপাখা, প্রাপ্ত ভোট ৭১৫), আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. আব্দুল কাদির (নৌকা, ৩৫৯), এরশাদ হক (স্বতন্ত্র, ঘোড়া, প্রাপ্ত ভোট ২৬৫), মো. আজিম উদ্দিন খান (স্বতন্ত্র, আনারস, প্রাপ্ত ভোট ১২১)। মোট বৈধ ভোট ১৭১২১।  

আগিয়া ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মো. সালেহ্ (হাতপাখা, প্রাপ্ত ভোট ৭২৯) ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত সাবিকুল আনিছ (কাস্তে, প্রাপ্ত ভোট ৪০)। মোট বৈধ ভোট ১৬৫৮১।
নারান্দিয়া ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মো. তোফাজ্জল ইসলাম (হাতপাখা, প্রাপ্ত ভোট ২৮৩)। মোট বৈধ ভোট ১৪৯৮৭। জারিয়া ইউনিয়নে মো. কাজল মিয়া (স্বতন্ত্র, আনারস, প্রাপ্ত ভোট ৪২১)। মোট বৈধ ভোট ১৪৬০৫। বিশকাকুনী ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মো. আব্দুল মজিদ (হাতপাখা, প্রাপ্ত ভোট ৩০৬)। মোট বৈধ ভোট ১৪৯৫৮।

ঘাগড়া ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মো. নজরুল ইসলাম (হাতপাখা, প্রাপ্ত ভোট ১,৪৫৪)। মোট বৈধ ভোট ১৬৫৯৩।  

বৈরাটী ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মোহাম্মদ আলী তালুকদার (হাতপাখা, ৫১৮) ও মো. জহিরুল ইসলাম জজ মিয়া (স্বতন্ত্র, মোটরসাইকেল, প্রাপ্ত ভোট ২০৫)। মোট বৈধ ভোট ১৪০৬২।  
হোগলা ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মোহাম্মদ আব্দুল গফুর (হাতপাখা, ১৫৩), মো. ফারুক খান (স্বতন্ত্র, ঘোড়া, ৮৩), হুমায়ূন কবীর (স্বতন্ত্র আনারস, ১৭) ও বুলবুল মীর (স্বতন্ত্র, মোটরসাইকেল, ১৬৬৬)। মোট বৈধ ভোট ১৭৬১৯।  

গোহালাকান্দা ইউনিয়নে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন মনোনীত মো. শফিকুল ইসলাম সিংহ (প্রাপ্ত ভোট ১০০৬) ও এম.আর.বি জাকির হোসেন তালুকদার (স্বতন্ত্র, মোটরসাইকেল, প্রাপ্ত ভোট ৪২)। মোট বৈধ ভোট ১৭৩৪৫।  

খলিশাউড় ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মো. মাজহারুল ইসলাম (স্বতন্ত্র, হাতপাখা, প্রাপ্ত ভোট ৮৭৭) ও বর্তমান চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী, স্বতন্ত্র (ঘোড়া, প্রাপ্ত ভোট ১,৫১২)। মোট বৈধ ভোট ১৬০৮৭।

এদিকে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল কাদির (নৌকা) বলেন, দলের নেতাকর্মীরা দুই গ্রুপে বিভক্ত। আমার পক্ষে একজনও কাজ করে নাই। গতবার নির্বাচনে নৌকা নিয়ে দুই হাজার ৯০০ ভোট পেয়েও জয় পাইনি। এবারের নির্বাচনেও দলের অনেক নেতাকর্মী আমার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। গত নির্বাচনে তবু কিছু নেতাকর্মী আমার হয়ে কাজ করেছিলেন। এবার কেউ-ই ছিলেন না নৌকার সাথে। তাই আমার নির্বাচনে এই বিপর্যয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন মালু বলেন, আব্দুল কাদিরের অভিযোগ সত্য নয়। দলের ভেতরে কোনো কোন্দল নেই। বিভাজন নেই। এলাকায় কাদিরের জনপ্রিয়তা নেই। এ কারণেই তার ফল খারাপ হয়েছে।



সাতদিনের সেরা