kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ভবন সমস্যায় ভূরুঙ্গামারীর বলদিয়া কলেজের দুই যুগ পার

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি    

১ ডিসেম্বর, ২০২১ ১০:১৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভবন সমস্যায় ভূরুঙ্গামারীর বলদিয়া কলেজের দুই যুগ পার

প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই যুগ অতিবাহিত হলেও ভবন না থাকায় কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া কলেজের আধাপাকা ভবন দুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রায় ২৫ বছর আগে নির্মিত এই ভবন দুটিতে ঝুঁকির মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

প্রায় দুই যুগ ধরে প্রতিষ্ঠিত উপজেলার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়ানো কলেজটিতে পাঠদানের জন্য সরকারি অনুদানের পাকা ভবন নির্মিত না হওয়ায় হতাশ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ স্থানীয়রা।
তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কলেজটির ভবন সমস্যার সমাধান করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবন দুটি জীর্ণ শীর্ণ। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। চালের টিনের পাত খুলে গেছে। বারান্দা ধসে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে শ্যাওলা ও আগাছা জন্মেছে। বাথরুমের পরিস্থিতিও নাজুক। বর্তমানে এসব ভবনেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। প্রায় চারশ শিক্ষার্থী প্রতিদিন ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন এই ভবনে।

কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, উপজেলার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা কলেজটিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য ভবন চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার আবেদন করেও পাঠদানের জন্য পাকা ভবন বরাদ্দ পায়নি এই কলেজটি। এলাকাবাসী বলছেন, এতো বছরেও ভবন বরাদ্দ না পাওয়ার কারণ হচ্ছে, কুড়িগ্রাম-১ আসনে জাতীয় পার্টির সাবেক ২০ বছরের সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের একপেশে নীতি। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক এই সাংসদ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সদরের বাইরে স্থাপিত বলদিয়া কলেজের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৭ সালে। কলেজটি প্রতিষ্ঠার দু’বছর পর এমপিওভুক্ত হয় এবং ২০১৪ সাল থেকে কলেজটিতে স্নাতক পর্যায়ের পাঠদান শুরু হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই ভবনের ছাদ ও দেয়াল চুইয়ে পানি পড়ে। ভবন স্বল্পতার কারণে কলেজটিতে কোনো কমন রুম নেই, নেই কোন আলাদা লাইব্রেরি, মেয়েদের জন্য স্বতন্ত্র কোনো টয়লেট না থাকায় বিপাকে পরতে হয় তাদের। নেই পর্যাপ্ত ক্লাসরুম।

একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিতু, তমা ও নুর ইসলাম জানান, কলেজে পাঠদান কক্ষের স্বল্পতা ও বিশ্রামাগারের সমস্যা রয়েছে। এছাড়াও পৃথক শৌচাগার না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অন্য কলেজগুলোর মতো একটি পাকা ভবন হলেই এই সমস্যাগুলো দূর হবে।

ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মাইদুল ইসলাম মুকুল এ বিষয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো কমন রুম নেই। লাইব্রেরি রুম ও নির্দিষ্ট কোনো বিজ্ঞানাগার নেই। মেয়েদের জন্য নেই আলাদা টয়লেট। নেই স্থায়ী  সাইকেল গ্যারেজ। ক্লাস রুমের স্বল্পতার কারণে রুম শেয়ার করে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের । সবমিলিয়ে আমরা খুব সমস্যায় আছি।

স্থানীয় অধিবাসী শফিকুল ইসলাম বলেন, আধাপাকা টিনশেড ভবনে ক্লাশ করায় ছেলেমেয়েরা শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কলেজে পাকা ভবন হলে ছেলেমেয়েরা পড়াশোনায় আরো মনোযোগী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কলেজটির অধ্যক্ষ কৃষিবিদ লুৎফর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানের অর্থে নির্মিত আধাপাকা একটি টিনশেড ভবনেই শিক্ষার্থীদের দুই যুগ ধরে পাঠদান করা হচ্ছে। পাঠদানের জন্য ভবন চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কয়েকবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে সাড়া মেলেনি কর্তৃপক্ষের। বার বার আবেদন করে আমি এখন ক্লান্ত। তাই নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত একটি আধা পাকা টিনশেড ভবনেই দুই যুগ ধরে অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে চলছে পাঠদান। তিনি আরো বলেন, এতো বছরেও ভবন বরাদ্দ না পাওয়ায় কুড়িগ্রাম-১ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক ২০ বছরের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের একপেশে নীতিকে দায়ী করেন অভিভাবকসহ অনেকেই। তবে বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য দ্রুতই ভবন সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম -১ আসনের সাবেক জাপা সাংসদ একেএম মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, আমার বিরুদ্ধে করা এলাকাবাসীর অভিযোগ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত। আমার সময়ে ডিগ্রি কলেজ ছাড়া চারতলা ভবন বরাদ্দের কোন অপশন ছিল না। যেহেতু ওই সময়ে বলদিয়া কলেজটি ছিল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তাই নিয়ম অনুযায়ী ভবন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।  

কুড়িগ্রাম -১ আসনের সরকার দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আসলাম হোসেন সওদাগর বলেন, বলদিয়া ডিগ্রি কলেজের ভবন সমস্যা সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে চার তলা একটি ভবনের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। শুধু বলদিয়া কলেজ নয় পর্যায়ক্রমে আমার নির্বাচনী এলাকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়ন করার প্রচেষ্টা আমার আছে এবং থাকবে। এছাড়াও আমার নির্বাচনী এলাকার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি শিক্ষার উন্নয়নে আমি বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি যা শিগগিরই দৃশ্যমান হবে ইনশাআল্লাহ।



সাতদিনের সেরা