kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ভালো কলেজে পড়ার স্বপ্ন ছিল দুর্জয়ের

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া    

১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০৫:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভালো কলেজে পড়ার স্বপ্ন ছিল দুর্জয়ের

স্বজনদের আহাজারি

বেলা পাঁচটায় সুনসান নিরবতা। মসজিদের মাইকে জানাজার নির্ধারিত সময়ের ঘোষণায় কিছুটা আড়মোড়া কাটে। অ্যাম্বুল্যান্স আসার শব্দে হাপহিত্যেশ। ‘পুলাডা মেট্টিক দিছিলো। বালা কলেজে পড়নের স্বপ্ন আছিলো’- বলতে বলতে বাড়ি থেকে রাস্তায় আসছিলেন এক নারী। আমোদা বেগম নামে ওই নারী দুর্জয়ের খালাম্মা। পাঁচটা ২৫ মিনিটে দুর্জয়ের লাশ বাড়ির সামনে আসতেই কান্নার রুল। বাড়ির অনিতদূরেই খুঁড়ে রাখা কবরে নেওয়া হলো দুর্জয়ের লাশ।

বাসচাপায় লাশ হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থী মাঈন উদ্দিন ইসলাম (দুর্জয়)। গত সোমবার ঢাকার রামপুরায় দুর্ঘটনার শিকার হন দুর্জয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নানার বাড়ি সরাইল উপজেলা সদরের হালুয়াপাড়ার কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। 

দুর্জয় সরাইল উপজেলার পানিশ্বরের আব্দুর রহমানের ছেলে। তবে পরিবারের সবাই ঢাকাতেই বসবাস করতেন। দুর্জয়ের বাবা চা দোকানি। মা রাশেদা বেগম ওই দোকান চালানোর সহযোগিতা করার পাশাপাশি রামপুরার স্থানীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক।

রাশেদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, ‘আমার পুলা বালা কলেজে পড়তে চাইছিলো। আমারে কইছিলো মা তুমি রাজনীতি করি দেইক্কা বালা কলেজে ভর্তি করাইতে পারবা। বাবাকেও বলছিলো ভালো কলেজে পড়াইতে পারবে কিনা। অহন আমার কি অইলো। আমার পুলা তো নাই।’

তিনি জানান, সোমবার দুর্জয়ের জন্মদিন ছিল। রাত ১০টার দিকে পানি খেয়ে সে বাসা থেকে বের হয়। মুন্না নামে এক বন্ধুকে দেখে তাকে সঙ্গে নিয়ে যায় সে। কিছুক্ষণ পর টিভিতে একটি দুর্ঘটনার খবর জানতে পারেন। পরে লাশ দেখে ছেলের বলে নিশ্চিত হন। 

ঘটনা সম্পর্কে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, এ নিয়ে তারা দুই ধরনের কথা শুনেছেন। কেউ কেউ বলেছেন একটি বাস থেকে দুর্জয়কে ফেলে দেন হেলপার। আবার কেউ কেউ বলেছেন রাইদা ও অনাবিল নামের দুইটি বাস নিজেদের মধ্যে গতির প্রতিযোগিতার করার সময় এতে চাপা পড়ে দুর্জয়।

দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে দুর্জয় সবার ছোট। পড়াশুনার পাশাপাশি ফুটবল খেলাতেও সে বেশ ভালোই ছিল। স্থানীয় একটি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেয় সে। পরীক্ষায় ভালোভাবে পাস করবে বলেও জানায় পরিবারের লোকজনকে।

দুর্জয়ের খালাম্মা আমোদা বেগম জানান, গত রবিবার হওয়া সরাইলের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি সদস্য (মেম্বার) পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এ আনন্দে সামিল হতে মঙ্গলবার আসার কথা ছিলো দুর্জয়ের। এখন সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল। 

দুর্জয়ের ভাতিজা রায়হান আলম বলেন, ‘আমরা সম বয়সি। বাড়িতে এলেই একসঙ্গে ঘুরতাম। সড়ক দুর্ঘটনায় আমি আহত হয়েছি এ ছবি ফেসবুকে দেখে পরশুও সে আমাকে ফোন দেয়। বলে বাবা তোর কি হইছে। আজ সে নিজেই চলে গেল।’

বোন জামাই মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘জন্মদিনের কেক আনতে বের হয়েছিল দুর্জয়। বন্ধুদের সঙ্গে যাওয়ার পথেই সে দুর্ঘটনায় পড়ে।’ খালাতো ভাই-বোন শরীফ ও লাভলী ভাই হারানোর বেদনায় হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে মূর্ছা যাচ্ছিলেন।



সাতদিনের সেরা