kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

গ্রাম্য মাতব্বরদের পকেটে পরকীয়ার জরিমানা! ঘর ছাড়া ভুক্তভোগীরা

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

৩০ নভেম্বর, ২০২১ ১৮:১৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গ্রাম্য মাতব্বরদের পকেটে পরকীয়ার জরিমানা! ঘর ছাড়া ভুক্তভোগীরা

নওগাঁর রাণীনগরে গ্রাম্যসালিশে পরকীয়ার অভিযোগে প্রেমিককে ১লাখ ৫০হাজার এবং প্রেমিকাকে (গৃহবধু) ১লাখ টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে। জরিমানার পুরো টাকা পকেটস্থ করারও অভিযোগ উঠেছে উপজেলার বড়গাছা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মোহসীন মল্লিক ও তার সহযোগী নব-নির্বাচিত ইউপি সদস্য অনিমেষ চন্দ্র সরকারসহ স্থানীয় মাতব্বরদের বিরুদ্ধে। রাণীনগর উপজেলার বড়গাছা ইউপির দেউলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

গত শুক্রবার এর মধ্যে ভূক্তভোগী গৃহবধুর (২৫) জরিমানার পুরো টাকা পরিশোধের কথা ছিল।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু গরীব ওই গৃহবধূর পক্ষে এতোগুলো টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় ওই গৃহবধূ এখন ঘর ছাড়া। অপরদিকে ছেলের পরিবারের কাছ থেকে ১লক্ষ টাকা আদায় করলেও অবশিষ্ট টাকা দিতে না পারায় গ্রাম ছাড়া হয়েছে প্রেমিক সবুজও।

জানা গেছে, উপজেলার দেউলা গ্রামের শুনিল চন্দ্রের ছেলে সবুজ (২৫) এর সঙ্গে ৭মাস আগে বিয়ে করার শর্তে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মুসলিম ওই গৃহবধুর। বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তারা উভয়ে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার দিবাগত রাতে ওই গৃহবধূর ঘর থেকে সবুজকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে স্থানীয় মাতব্বর মোহসীন মল্লিক ও অনিমেষ চন্দ্র সরকারসহ কতিপয় ব্যক্তিরা।  

এরপর গ্রাম্য শালিশে গ্রামবাসীকে এক সন্ধ্যা ভুরিভোজ করার নামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ছেলে সবুজের জরিমানা করা হয় ১লাখ ৫০হাজার এবং মুসলিম গৃহবধূর জরিমানা করা হয় ১লক্ষ টাকা। ছেলে পক্ষ তাৎক্ষনিক ভাবে ১লক্ষ টাকা পরিশোধ করে ২৬ নভেম্বর শুক্রবার পর্যন্ত অবশিষ্ট ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য সময় নেয়। একই ভাবে একই তারিখের মধ্যে ওই গৃহবধূকেও টাকা পরিশোধের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।  

এই ঘটনার পর থেকে সাইকেল মেকার সবুজ গ্রামছাড়া হয়েছে। অপরদিকে ওই গৃহবধূসহ তার স্বামী এবং সবুজের পরিবারের সদস্যদের এই বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য মাতব্বরদের পক্ষ থেকে প্রাননাশের হুমকিসহ বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এতে করে ভুক্তভোগী প্রেমিক ও প্রেমিকাসহ পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। এছাড়া প্রভাবশালী ওই মাতব্বরদের ভয়ে কোন পরিবারই আইনের আশ্রয়ে যেতে বা কাউকে কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না।

গৃহবধূ মুঠোফোনে বলেন বিয়ের পর থেকে আমি পারিবারিক ভাবে সুখি নই। স্বামীর পরিবারসহ আশেপাশের মানুষের অনেক অত্যাচার সহ্য করে আসছি। হঠাৎ করেই আমার বাড়ির পাশের সাইকেল মেকার সবুজের সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমরা একে-অপরকে ভালোবাসি। সবুজ আমাকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়েছিলো। কিন্তু এই সম্পর্কের কথা কতিপয় মাতব্বররা জেনে যায়। এরপর তারা মিথ্যে অভিযোগে আমাকে আর সবুজকে জিম্মি করে এই জরিমানা করেছে যা আমার পক্ষে যোগান দেওয়া সম্ভব নয়। আমি সবুজকে বিয়ে করতে চাই। কিন্তু মাতবররা নানা কৌশলে তা হতে দিচ্ছে না। আমি এই ধরনের অন্যায়ের সঠিক বিচার চাই। আমি মাতব্বরদের নানা রকমের হুমকি-ধামকীর ভয়ে বর্তমানে পালিয়ে রয়েছি। প্রেমিক সবুজ গ্রামছাড়া হওয়ার কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মাতব্বর নব-নির্বাচিত মেম্বার অনিমেষ চন্দ্র সরকার বলেন ওই গৃহবধূর চরিত্র ভালো নয়। এই ধরনের ঘটনা ওই গৃহবধূ ইতিপূর্বে অনেকবার ঘটিয়েছে। গ্রামবাসীরা ওই গৃহবধূর এই ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ। তাই গ্রামবাসীরা এবার শালিশে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেই সিদ্ধান্তকেই আমরা বাস্তবায়ন করছি।

থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিন আকন্দ বলেন বিষয়টি জানার পর আমি গৃহবধূর কাছে পুলিশ সদস্যকে পাঠিয়েছি খোঁজখবর নিতে এবং সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে মোবাইল নম্বরও দিয়েছি। গৃহবধূ থানায় অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।



সাতদিনের সেরা