kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

একটি ভোটও পাননি নজরুল, নিজের ভোট দিলেন কাকে?

অনলাইন ডেস্ক   

৩০ নভেম্বর, ২০২১ ০০:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একটি ভোটও পাননি নজরুল, নিজের ভোট দিলেন কাকে?

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নেন নজরুল ইসলাম। নির্বাচনে তার প্রতীক ছিল টিউবওয়েল। ২৮ নভেম্বর (রবিবার) সম্পন্ন হয়েছে ভোট। তবে ভোট গণনার পর নির্বাচন অফিস থেকে ঘোষিত ফলে দেখা যায়, একটি ভোটও পাননি নজরুল।

বিজ্ঞাপন

 

এ নিয়ে চলছে আলোচনার ঝড়। সবার প্রশ্ন, তাহলে কি নিজের ভোটটাও নিজেকে দেননি নজরুল। তবে প্রার্থী নজরুল ভোট পুনরায় গণনার দাবি জানান।  

নজরুল ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে নির্বাচন করেন। তিনি নাখারগঞ্জ পশ্চিম রামখানা দেওয়ানটারী গ্রামের ইজ্জতুল্ল্যার ছেলে।

ওই ইউনিয়নে নজরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুর জামাল শেখ ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৭১৬, ফজলে রহমান বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে পেয়েছেন চার ভোট, সফিকুল ইসলাম তালা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭৭ ভোট।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতীক পাওয়ার পর বিজয়ী হতে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণাও চালান নজরুল। সবার মতো দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে প্রতীক ও প্রার্থীর প্রচারণা। পোস্টার লাগানো হয় ওয়ার্ডের সর্বত্রই। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি। তবে কেন্দ্রে টিউবওয়েল প্রতীকের কোনো এজেন্ট ছিল না। রবিবার ভোট গণনা করে দেখা যায়, তিনি একটি ভোটও পাননি।

তাহলে তিনি, তার স্ত্রী, পরিবারের অন্যান্য সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, তার শুভাকাঙ্ক্ষী, কর্মী-সমর্থক ও এজেন্ট কেউই কি তাকে ভোট দেয়নি। এ নিয়ে বিস্তর আলোচনার সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে- প্রার্থীর নিজের ভোটটি কোথায় গেল?

প্রার্থী নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আমি মর্মাহত। অপ্রত্যাশিত এ ফলাফল শোনার পর আমি মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে গেছি। লজ্জায় বাইরে যেতে মন চায় না। কাল থেকে নিজেকে আমি প্রায় ঘরবন্দি করে ফেলেছি। ভোটের কথা মনে উঠলেই হাউমাউ করে আমার কান্না আসছে।

তিনি বলেন, যদি কর্মী-সমর্থকরা আমাকে ধোঁকা দেয় তার পরও আমি, আমার স্ত্রী মেহরা খাতুন, বড় ছেলে মফিজুল ইসলাম, তার স্ত্রী কল্পনা খাতুন, মেজো ছেলে এনামুল হক, তার স্ত্রী ফরিদা বেগমসহ রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়-স্বজনরা ভোট দিলে অন্তত দেড় শ থেকে দুই শ ভোট পাওয়ার কথা। সেখানে শূন্য ভোট হয় কিভাবে। আমি এটা মেনে নিতে পাছি না। রাতেই আমি সংশ্লিষ্ট অফিসে ভোট পুনর্গণনার আবেদন করেছি।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার আনোয়ার হোসেন আবেদন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে জানান, এটি আইনিভাবে মোকাবেলা করার জন্য তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



সাতদিনের সেরা