kalerkantho

বুধবার । ১২ মাঘ ১৪২৮। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

অবহেলিত মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চান তৃতীয় লিঙ্গের ঋতু

নয়ন খন্দকার, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)   

২৯ নভেম্বর, ২০২১ ২১:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবহেলিত মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চান তৃতীয় লিঙ্গের ঋতু

'এলাম দেখলাম জয় করলাম'- রোম সাম্রাজ্যের সেনাপতি জুলিয়াস সিজারের বাণী এটি। সেই বাণীর মতোই মিল খুঁজে পাচ্ছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৬নম্বর ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের ভোটাররা। অনেকটা আকস্মিকভাবে এলাকায় এসে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সবাইকে চমকে দিলেন তৃতীয় লিঙ্গের নজরুল ইসলাম ঋতু।

নির্বাচনের জয়লাভ করার করা একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি সাংবাদিকদের জানান, অবহেলিত মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাবো।

বিজ্ঞাপন

সমাজের একজন অবহেলিত মানুষ হয়েও এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন। এ জন্য আমি তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ। আমি এখন থেকে মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করব।

তিনি বলেন, এই গ্রামে আমার জন্ম। এখানে আমার পরিবার বেড়ে উঠেছে। তাদের পাশে থেকে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাই। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সম্প্রদায়ের ভোটের অধিকার দিয়েছেন। তার অবদানের কথা আমরা কোনোদিনও ভুলব না।

গত ২৮ নভেম্বর’২১ রবিবার তৃতীয় ধাপের ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র থেকে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৫৭ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী ওই ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান নৌকা প্রতিকে নজরুল ইসলাম ছানা পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২৯ ভোট। ভোটের ব্যবধান হিসাবে ঋতু তার প্রতিপক্ষ নৌকার প্রার্থীর চেয়ে ৫ হাজার ২৮ ভোট বেশি পেয়েছেন। এ ছাড়া তিনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ার রেকর্ড গড়েছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের সন্তান ঋতু তার নিজের জীবনের গল্প তুলে ধরে বলেন, জন্মের পর তৃতীয় লিঙ্গের একজন হওয়ার কারণে ৫ বছর বয়সে ঢাকাতে চলে যাই। সামান্য লেখাপড়া করলেও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতায় প্রাথমিকের গন্ডি পেরোনো হয়নি। ছোটবেলা থেকেই ঢাকার ডেমরা থানাতে আমার দলের গুরু মার কাছেই বেড়ে ওঠা। এখন আমার বয়স ৪৩ বছর। গুরু মার পরের দ্বায়িত্বটা এখন আমার কাঁধে। তবে ঢাকাতে থাকলেও পরিবারের টানে প্রায়ই বাড়িতে আসি। ঋতুর আরো তিন ভাই ও তিন বোন রয়েছেন। তিন ভাই ঢাকাতে থাকেন ও বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে।

সাক্ষাতকারে তিনি আরো বলেন, আমার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক। বাবা মারা যাওয়ার সময় বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন। যতদিন বাঁচবে তার আদর্শেই কাজ করব। এবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেলেও এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবেসে ভোটে দাঁড় করিয়েছিলেন। তাদের ভালোবাসার ভোটেই আজ আমি জয়ী হয়েছি।

ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়নে রূপ দিতে চাই। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, সব থেকে বেশি কষ্ট পাই যখন শুনি আমার এলাকার কেউ অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না অথবা মেয়ে বিয়ে দিতে পারছে না। এখন বিজয়ী হতে পেরে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহযোগিতা করতে পারব।

উল্লেখ্য, এর আগে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পার্শ্ববর্তী উপজেলা কোটচাদপুরের পিংকি খাতুন নামে এক তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি দেশের মধ্যে তৃতীয় লিংগের প্রথম জনপ্রতিনির স্বীকৃতি পায়।  



সাতদিনের সেরা