kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ইউপি নির্বাচন

সেই জালাল উদ্দীন পেলেন ৩ ভোট

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি   

২৯ নভেম্বর, ২০২১ ১৮:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেই জালাল উদ্দীন পেলেন ৩ ভোট

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসলেই ভোটে দাঁড়ানো নেশা জালাল উদ্দীনের। এ পর্যন্ত তিনি ৩ টি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। পাশ করেনি একবারও। তারপরও তার নিজের ভিতরে কোন রকমের কষ্ট নেই।

বিজ্ঞাপন

বরং তিনি বলছেন সৎ ও যোগ্য প্রার্থী হিসেবে জনগন তাকেই বেছে নেবে। সব চেয়ে বড় কথা, তিনি মনের দিক দিয়ে বেশ খানিকটা এগুতে পারলেও ভোটের দিক দিয়ে তেমনটি পারেননি। কারন তিনি প্রথমে ২০১১ সালে ওই ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে দাঁড়িয়ে ভোট পেয়েছিলেন ১৩৩ ভোট। ২০১৬ সালে মেম্বর পদে পেয়েছিলেন ২ ভোট আর এবার ২০২১ সালের এই ইউনিয়নের একই পদে ভোট পেয়েছেন মাত্র ৩ টি।  

অর্থাৎ গত নির্বাচনের চেয়ে মাত্র ১ টি মুল্যবান ভোট বাড়াতে পেরেছেন। তাকে ঘিরে উৎসুক জনগনের প্রশ্ন তার পরিবারের মোট ১১ টি ভোট তাহলে তার পরিবারের অন্য ভোটগুলো গেলো কোথায়? 

উপজেলা নির্বাচন অফিসসূত্রে জানাগেছে, ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের সুন্দরপুর দুর্গাপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে মোট ৪ জন মেম্বর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এরমধ্যে হুমায়ন কবির ফুটবল প্রতিকে ৬৬০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।   জাহাঙ্গীর আলম মোরগ প্রতিকে পেয়েছেন ৪১০ ভোট। আরেক প্রার্থী আব্বাস আলী কোন ভোটই পাননি।  

এ ওয়ার্ডের মেম্বর পদের ভোটে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কেননা একজন পেয়েছেন শুন্য ভোট। তাহলে তার নিজের ভোট গেলো কোথায়? আর নির্বাচনে দীর্ঘদিনের আগ্রহী জালাল উদ্দীন পেয়েছেন মাত্র ৩ ভোট, তাহলে তার পরিবারের ভোট গেলো কোথায় ? 

ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা মিশন আলী জানান, নির্বাচন সব জায়গাতেই হয়। কিন্ত তার ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের জালাল উদ্দীন প্রতি নির্বাচনেই অংশ নেন। কখনও চেয়ারম্যান পদে আবার কখনও মেম্বর পদে। এ ওয়ার্ডে আরও একটি মজার ঘটনা ঘটেছে মেম্বর পদের প্রার্থী আব্বাস আলী শুন্য ভোট পেয়েছেন। তাহলে ওই প্রার্থীর নিজের ও তার পরিবারের ভোটটা গেলো কোথায়? এ নিয়ে এলাকায় হাসি হাস্য রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।  

ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ইলিয়াস রহমান মিঠু জানান, জালাল উদ্দীন নিজেই একজন নির্বাচনে আগ্রহী মজার মানুষ। নিজের প্রচার নিজেই করেন। নিজের রিকশায় প্রচার মাইক বেধে নিজে চালিয়ে নিয়ে বেড়ান আর এলাকায় ভোট ভিক্ষা করেন। নিজের পোষ্টার নিজেই বিলি করেন। যাহোক এটাও নির্বাচনের একটি অংশ।  

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করেছেন জালাল উদ্দীন ১৯৮৭ সালে এস.এসসি পাস করেছেন। তার বাড়ি সুন্দরপুর দুর্গাপুর ইউনিয়নের কাদিরকোল গ্রামে। তার বাবার নাম আরশেদ আলী, সংসারে স্ত্রী  ৪ ছেলে ৫ মেয়ে তার। আগে রিকশা চালাতেন। এখন কবিরাজি করেন। প্রতি নির্বাচনে তিনি আগ্রহের সঙ্গে অংশ নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে ভোট ভিক্ষা করেন। এবার তিনি মোট ৩ ভোট পেয়েছেন। এর আগের নির্বাচনে পেয়েছিলেন ২ ভোট। তারপরও তিনি আগ্রহ হারাননি।



সাতদিনের সেরা