kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নেতার উপস্থিতিতে হাসপাতাল তত্বাবধায়কের ওপর হামলা, প্রতিবাদে কর্মবিরতি

অনলাইন ডেস্ক   

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ২৩:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নেতার উপস্থিতিতে হাসপাতাল তত্বাবধায়কের ওপর হামলা, প্রতিবাদে কর্মবিরতি

২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক শিহাব উদ্দিন শাহিনের উপস্থিতিতে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার হেলাল উদ্দিনকে লাঞ্চিত করা হয়েছে। আজ রবিবার দুপুরে জেনারেল হাসপডাতালের তত্বাবধায়কের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও কর্মকতা-কর্মচারীরা বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করছে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার হাসপাতালের ২০২০-২১ অর্থ বছরের এমআরএস টেন্ডারের দরপত্রের শিডিউল নিতে আসেন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আ্যডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন। এ সময়ে তত্বাবধায়কের কক্ষে তার সঙ্গে তার দলীয় কয়েকজনও আসে। দরপত্র ফরম দিতে বিলম্ব হওয়ায় এক যুবক কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তত্বাবধায়ক ডাক্তার হেলাল উদ্দিনের উপর তেড়ে আসে। তার গলার টুটি চেপে ধরে তাকে লাঞ্চিত করে। পরে তারা হাসপাতাল ত্যাগ করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে  হাসপাতালের ডাক্তার নার্স ও কর্মকর্তারা বিক্ষুদ্ধ হয়ে তাদের কাজকর্ম বন্ধ করে বিক্ষোভ করে। 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত অ্যডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিনসহ তার সংগে আসা সকল সন্ত্রাসীদের আইনার আওতায় এনে গ্রেপ্তারের দাবী জানায় বিক্ষুব্ধরা। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের  তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীনের নের্তৃত্বে ৪০/৫০ জনের একটি দল ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের টেন্ডার শিডিউল ক্রয় করতে আসেন। এ সময় শিহাব উদ্দিন শাহীন ও তার অনুসারীরা তার কাছে শিডিউল চায়। শিডিউল দিতে কয়েক মিনিট দেরী করায় শিহাব উদ্দিন শাহীনের উপস্থিতিতে তার এক অনুসারী আমার দিকে তেড়ে এসে আমাকে নাজেহাল করে। এ ঘটনায় আমি কিং কর্তব্য বিমুড় হয়ে যাই।   

ঘটনার পর পরই হাসপাতালের মূল ফটকে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আনোয়ারুর আজিমের নেতৃত্বে হাসপাতালের ডাক্তার, ওয়ার্ড বয় ও নার্সরা বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভকারীরা এড. শিহান উদ্দিন শাহীনের বিরুদ্ধে ফটকের ভিতরে শ্লোগান দিতে থাকে এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হেলাল উদ্দিনকে লাঞ্ছিত করার ঘটনার অবিযুক্তকদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে হাসপাতালে ইমাজেন্সি ব্যাতিত সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পরে তারা পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকে কার্যালয়ে যায়।

জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে থাকা সার্জারি বিশেষজ্ঞ ও নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল কলেজের শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক ডাক্তার কামরুল হোসেন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক তত্ববধায়ক শিডিউল দিতে তারে অধিনস্তদের নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে এভাবে তাকে নাজেহাল করা বিষয়টি কেউ মেনে নিতে পারেনি। 

নোয়াখালী জেলা বিএমএর সভাপতি ডাক্তার এম এ নোমান বলেন, জেলা পর্যায়ের একজন দায়িত্বশীল নেতার উপস্থিতিতে তত্বাবধায়কের হামলার ঘটনায় আমরা আগামীকাল সোমবার মানববন্দন করব এবং পরবর্তি কর্মসুচি দেব। সে পর্যন্ত জরুরী বিভাগ ব্যাতিত অন্যসব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শ্বাস্তি দাবি করছি। 

তত্বাবধায়কের উপর হামলার বিষয়ে জানতে জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের  যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, শিডিউল কিনতে তিনি নিজে গেছেন তার কোন অনুসারী হাসপাতালে যায়নি। তবে কে তত্বাবধায়ককে নাজেহাল করেছে তাকে তিনি চিনেন না, হাসপাতালে অনেক ঠিকাদার শিডিউল কিনতে গিয়েছে এ ঘটনার তিনিও নিন্দা জানান। 

সুধারাম থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মো.জাকির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা