kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কালের কণ্ঠকে আবরারের মা-বাবা

একটাই দাবি, উপযুক্ত রায় ঘোষণার পর তা দ্রুত কার্যকর করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ১২:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একটাই দাবি, উপযুক্ত রায় ঘোষণার পর তা দ্রুত কার্যকর করতে হবে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় আজ রবিবার ঘোষণা করা হবে। হত্যাকাণ্ডের দুই বছর এক মাস ২২ দিন পর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতে এই রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে আবরারকে তার কক্ষ থেকে ডেকে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। নিহত আবরার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামের রোকেয়া খাতুন ও বরকত উল্লাহর ছেলে।

বিজ্ঞাপন

 

রায় ঘোষণার কারণে গতকাল শনিবার আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ও একমাত্র ছোট ভাই আবরার ফায়াজ ঢাকায় গেছেন। মা রোকেয়া খাতুন রয়েছেন কুষ্টিয়া শহরের বাড়িতে।   আবরারকে যে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে, ঘটনার দুই বছর পরও মা রোকেয়া খাতুন সেই স্মৃতি ভুলতে পারেননি। ছেলে হারানোর পর থেকে কান্নাই যেন এখনো তার নিত্যসঙ্গী। আবরারের লাশ দাফনের দিন ছেলের মুখটি শেষবার দেখার জন্য সেই যে ঘরের বাইরে এসেছিলেন, এর পর থেকে তিনি আর ঘরের বাইরে যাননি। ঘরেই বসে থাকেন সব সময়। শুধু নামাজ কালাম আর আবরারের স্মৃতি নিয়েই সময় কাটছে মমতাময়ী মায়ের।
     
কুষ্টিয়া শহরের বাড়িতে আবরারের মা রোকেয়া খাতুনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, যে যাবার সে তো তার সহপাঠীদের নির্মম নির্যাতনে পৃথিবী থেকে চলে গেছে। কিন্তু কী কারণে চলে গেল! কাদের কারণে চলে যেতে হলো? যাদের নির্যাতনে আমার ছেলে চলে গেল, তাদের সবার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। আমরা সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাই। আদালতের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমরা আশা করি এই রায়ের মধ্য দিয়ে সবার কাছে একটা বার্তা যাবে। যাতে করে আর ভবিষ্যতে কেউ কোনো মায়ের বুক খালি করার চেষ্টা না করে।
     
টেলিফোনে আবরারের বাবা এই প্রতিবেদককে বলেন, ছেলে হত্যার রায়ের কারণে আমি ঢাকার পথে। আমি এবং আমার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা সবাই আসামিদের মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করি। যে রায়ের মধ্য দিয়ে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড আর কখনো কাউকে দেখতে হবে না। কোনো মা-বাবার বুকও খালি হবে না। আমরা আবরারের হত্যাকারীদের সবারই মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করছি।  
     
আবরারের বাবা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর আমি প্রথমে ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেছিলাম। পরে  গ্রেপ্তারকৃতদের জবানবন্দিতে আরো ৬ জনসহ মোট ২৫ জন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২৫ আসামির মধ্যে বর্তমানে ২২ জন গ্রেপ্তার রয়েছে। এদের অনেকেই এই হত্যায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা আদালতে বিভিন্ন সময়ে স্বীকারও করেছে। আমাদের একটাই দাবি, উপযুক্ত রায় ঘোষণার পর তা দ্রুত কার্যকর করতে হবে।



সাতদিনের সেরা