kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

উপকূলীয় চার নদী প্লাস্টিক দূষণের কবলে

চিতলমারী-কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ১০:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপকূলীয় চার নদী প্লাস্টিক দূষণের কবলে

উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের চিতলমারী ও কচুয়া উপজেলার চার নদীতে যত্রতত্র প্লাস্টিক সামগ্রী ফেলে পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে একবার ব্যবহারযোগ্য ‘ওয়ানটাইম’ প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহার বন্ধে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা অমান্য করে এসব ওয়ানটাইম প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারের পর নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে নদী দূষিত হচ্ছে। আইন মানছেন না কেউ। প্লাস্টিক ফেলে নদীদূষণ বন্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চিতলমারীর মরা চিত্রা, মধুমতি ও বলেশ্বর নদীতে একবার ব্যবহৃত (ওয়ানটাইম) প্লাস্টিকের থালা, গ্লাস, খাবারের প্যাকেটসহ নানা দ্রব্য ফেলা হয়। নদী থেকে ভেসে আসা কচুরিপানার ফাঁকে এই সব প্লাস্টিকের নানা জিনিস আটকে থাকছে। ফলে নদীস্রোতের স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 

বাগেরহাট জেলা পরিষদের সদস্য ও চিতলমারী সদরের বাসিন্দা মোহন আলী বিশ্বাস বলেন, ওয়ানটাইম প্লাস্টিক ফেলায় নদীর দূষণ বাড়ছে। এই দূষণ রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
  
চিতলমারীর উন্নয়নকর্মী নাহিদা ইয়াসমিনসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চিতলমারী উপজেলা সদর বাজারের পাশে রয়েছে বলেশ্বর, মরা চিত্রা ও মধুমতি নদী। এসব নদীর যত্রতত্র একবার ব্যবহারযোগ্য (ওয়ানটাইম) প্লাস্টিকের সামগ্রী ফেলা হয়। ভেসে আসা কচুরিপানার ফাঁকে সেসব আবর্জনা জমতে জমতে একসময় গোটা নদীতে আটকে থাকে। তখন নৌযান চলাচল বিঘ্নিত হয়। একপর্যায়ে দুর্গন্ধ ছড়ানো শুরু করে। 

কচুয়া সদরের বাসিন্দা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান খোন্দকার নিয়াজ ইকবাল বলেন, ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)-সহ ১১টি সংগঠনের পক্ষে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। ওই রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নির্দেশ দেন, এক বছরের মধ্যে দেশের সব উপকূলীয় অঞ্চল ও হোটেল-মোটেল-রেস্টুরেন্টে ওয়ানটাইম প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। 

মানবাধিকার ফাউন্ডেশন কচুয়া শাখার সভাপতি তুষার রায় রনি জানান, প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেই আইন কেউ মানেন না। কচুয়া উপজেলা সদরের ভৈরব নদীর যেখানে খুশি সেখানে প্লাস্টিক আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সবার সচেতনতা দরকার। পরিবেশ দূষণ রোধে তিনি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন। 

জানা গেছে, ১৯৯৫ সালের বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৬(ক) ধারা অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করে ২০০২ সালের জানুয়ারি থেকে দেশে পলিথিন ব্যাগের উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ ও ব্যবহারকে নিষিদ্ধ করা হয়। 

বাগেরহাট জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, পরিবেশ দূষণ যাতে না হয় সেজন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। পরিবেশ আইন-২০১০ অনুযায়ী, আদালত দূষণকারীকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন। 



সাতদিনের সেরা