kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংবাদ সম্মেলনে তথ্য

৩৭ রকম নির্যাতনের শিকার তিন হাজারের বেশি নারী ও শিশু

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২৬ নভেম্বর, ২০২১ ২১:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৩৭ রকম নির্যাতনের শিকার তিন হাজারের বেশি নারী ও শিশু

নারী ও কন্যাশিশুরা ৩৭ রকমের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত তিন হাজার ১২৮ জন নারী ও শিশু এ ধরণের নির্যাতনের শিকার হন। ২০২০ সালে মোট তিন হাজার ৪৪০ জন নারী ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুক্রবার দুপুরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জেলা শাখার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

 

সংগঠনের কাছে থাকা দেশের ১৩টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সংরক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতে এ চিত্র তুলে ধরা হয়। ওই চিত্র অনুযায়ী, চলতি বছরে বাল্যবিবাহ বেড়েছে তিন গুনের বেশি। নারীর প্রতি সাইবার ক্রাইমও গত বছরের তুলনায় বেড়েছে।

নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ ও নারীর সমঅধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি পাঠাগারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে গত দুই বছরে সারাদেশে হওয়া নারী নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি এসব নির্যাতন প্রতিরোধে নিজেদের করণীয় ও উদ্যোগের কথা জানান আয়োজনকারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাথী চৌধুরী। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি শোভা পাল, সহ-সভাপতি নিভা রায়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নেলী আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীমা সিকদার দীনা, অর্থ সম্পাদক আসমা খানম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক লাকী সরকার, আন্দোলন সম্পাদক শ্যামলী মিয়াজি। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, সমতা ভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্খায় এদেশ স্বাধীন হয়েছিল। বিগত ৫০ বছরে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নের যে প্রভ‚ত অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, সেখানে নারীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। কিন্তু নারীর মানবাধিকার অর্জন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি। বাস্তবতা হলো, নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক যা মানবাধিকার ও উন্নয়নের পরিপন্থী।

সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা চিত্র অনুযায়ী, ২০২০ সালে ১০৭৪ জন নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮৯০ জন। গত বছর ২৩৬ জন গণধর্ষণের শিকার হয়। চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত গণধর্ষণ হয়েছে ১৫৯ জন। এ বছর অপহরণের সংখ্যা বেড়ে এখন পর্যন্ত ১৫৩ জন। যা গত বছর ছিলো ১২৫ জন।

বাল্যবিবাহের চিত্র থেকে দেখা যায়, শুধুমাত্র এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই ১৮৫ জন বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। যেখানে ২০২০ সালে পুরো বছরজুড়ে ৮৪ জনের বাল্য বিয়ের খবর উঠে আসে ১৩টি জাতীয় দৈনিকের খবরে। এ বছরের অক্টোবর নাগাদ ২১০ জন বাল্য বিয়ের খবর উঠে এসেছে।

নারী ও কন্যাশিশুরা সাইবার ক্রাইমেরও শিকার হচ্ছেন। এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ৫৪ জন নারী সাইবার ক্রাইমের শিকার হন। অন্যদিকে গত বছর শিকার হয়েছেন ৪৩ জন। এ ছাড়া নারী ও শিশুরা যৌন নিপীড়ন, এসিডদগ্ধ, পাচার, যৌতুকের কারণে নির্যাতন ও হত্যা, জোর পূর্বক বিয়ের মতো নানা ধরণের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে পত্রিকার খবরে উঠে আসে।

সংবাদ সম্মেলনে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের স্থানীয় কিছু চিত্র তুলে ধরা হয়। তবে এসবের সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বছর নয়টি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, নির্যাতিত হয়ে শশুর বাড়িতে আটকে পড়া চারজন নারীকে পুলিশের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

এ সময় জানানো হয়, আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ২০২১ উপলক্ষে মহিলা পরিষদ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, বৈষম্যমূলক পারিবারিক আইন সংস্কার এবং সম্পদ সম্পত্তিতে সম অধিকার বিষয়ে তৃণমূল নারী পুরুষদের সঙ্গে আলোচনা। আইন কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিন্ন পারিবারিক আইন নিয়ে মতবিনিময়। এ ছাড়া এসব বিষয়ে পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন রকমের প্রচারণা চালানো হবে।    



সাতদিনের সেরা