kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন প্রিজাইডিং অফিসার

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি    

২৪ নভেম্বর, ২০২১ ১৮:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন প্রিজাইডিং অফিসার

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত সদস্য পদে সুষ্ঠুভোট গ্রহণের আশ্বাসে প্রার্থী পান্না আক্তারের নেওয়া ঘুষের ৭৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ড কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার মমতাজ উদ্দিন মিয়াজি এ টাকা ফেরত দেন।

আজ বুধবার (২৪ নভেম্বর) বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে তোলপাড় শুরু হয়। মমতাজ উদ্দিন উপজেলা দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা। তবে ওই কর্মকর্তা কোনো ঘুষের টাকা নেননি জানিয়ে, টাকা ফেরত দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না দাবি করেছেন।

জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপে ১১ নভেম্বর কমলনগর উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের নির্বাচন হয়। এরমধ্যে চরলরেন্স ইউনিয়নে বিনাভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় সেখানে সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ভোট হয়। ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্র শহীদ নগর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার মমতাজ উদ্দিন মিয়াজি। এ ওয়ার্ডে বিনাভোটে মেম্বার প্রার্থী নির্বাচন হওয়ায় শুধু সংরক্ষিত সদস্য পদে ভোট হয়। অভিযোগকারী পান্না আক্তার ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী (সূর্যমুখী) ছিলেন।

পান্না আক্তারের অভিযোগ, জনগণ তাকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আমার ভোট গণনায় কুটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। এ কেন্দ্রে তার শুধু ৮টি ভোট দেখানো হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের আশ্বাসে ওই কর্মকর্তা তার কাছ থেকে ভোটের আগের রাতে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে। ৬ দিন আগে এক ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় তিনি ৭৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন। বাকি টাকা পরে ফেরত দিবেন বলে আশ্বাস দেন।

নির্বাচনের ১৩ দিন পরে এ অভিযোগ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে পান্না বলেন, ভোটের ফলাফল শুনে আমি বাড়িতে এসে চরম অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে আমি এনিয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের কথা চিন্তা করিনি। আমার স্বামী শাহ আলম আমাকে মামলা করতে বলেছিলেন। তিনি লোকমুখে শুনেন আমি ভোট বেশি পেয়েছি। প্রিজাইডিং অফিসার টাকা নিয়ে আমার ভোট অন্যপ্রার্থীর ব্যালটের সঙ্গে গণনা করেছেন। ওই কেন্দ্রের ভোট পুনঃগণনা ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সন্ধ্যা ৫টার দিকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মমতাজ উদ্দিন মিয়াজি বলেন, টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি সাজানো। আমি কোনো টাকা নিইনি, ফেরত দেব কিভাবে। আমার কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।

উপজেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জায়েদুল হোসেন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  



সাতদিনের সেরা