kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

কুপিয়ে হত্যার পর পা কেটে নিয়ে গেল প্রতিপক্ষ!

মাদারীপুর ও শিবচর প্রতিনিধি   

২৩ নভেম্বর, ২০২১ ২০:২৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কুপিয়ে হত্যার পর পা কেটে নিয়ে গেল প্রতিপক্ষ!

বাবার মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছে সন্তানরা।

মাদারীপুরের শিবচরে জমি সংক্রান্ত ও পূর্বশত্রুতার জেরে দাদন চৌকিদার (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এসময় তারা নিহতের বাম পা কেটে নিয়ে গেছে অভিযোগ পরিবাররের।

মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে শিবচর উপজেলার শিবচর পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব শ্যামাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দাদন চৌকিদার ওই এলাকার মৃত আদম চোকদারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবচর পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব শ্যামাইল গ্রামের দিন মজুর দাদন চৌকদারের সাথে প্রতিবেশী শাহ আলম শেখের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। গত বছর উভয় পক্ষের সঙ্গে সংর্ঘষের ঘটনাও ঘটে। সম্প্রতি দাদন চোকদারের পক্ষে মামলায় রায় দেয় আদালত। কিন্তু অভিযুক্ত সেলিম সেখ সে রায় মেনে না নিয়ে দাদনকে হত্যার হুমকি দেয়। আজ দুপুর দাদন চোকদার শিবচর বাজার থেকে ভ্যানযোগে ফেরার পধে প্রতিপক্ষ সেলিম শেখ, মেহেদি মাদবর, নজরুল শেখ তাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে রাস্তার ওপর ফেলে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। পর্যায়ক্রমে কুপিয়ে দেহ থেকে পা বিচ্ছিন্ন করে। পরে বুকে ও মাথায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে থাকতে দেখে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন লোক তার বাড়িতে খবর দেয় ও তাকে উদ্ধার করে।

শিবচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যালে নেওয়ার পথেই শিবচরের পাচ্চর নামক স্থানে দাদন চোকদার মারা যান।

নিহতের স্ত্রী রুবি বেগম বলেন, 'আমার স্বামী বাজার থেকে বাড়ি আসার পথে সেলিম শেখ ও তার ছেলেরা মিলে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমার স্বামীর এক পা কেটে নিয়ে গেছে ওরা। আমি এখন তিনটি ছোট ছোট মেয়ে নিয়ে কিভাবে বাঁচবো। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।'

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন বলেন, 'উভয় পক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। গত বছর উভয় পক্ষের সংর্ঘষের ঘটনায় মামলাও হয়েছিল। সে ঘটনায় দাদনও আসামি। সম্প্রতি একটি জমি ভোগ দখল নিয়ে বিরোধ আরো চাঙা হয়। এ ঘটনার সূত্র ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।' 



সাতদিনের সেরা