kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

চৌগাছায় ৯টি ইউনিয়নের ৬টিতেই নৌকার ভরাডুবি

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি    

১৯ নভেম্বর, ২০২১ ১৫:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চৌগাছায় ৯টি ইউনিয়নের ৬টিতেই নৌকার ভরাডুবি

যশোরের চৌগাছা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছেই। নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে বলেও গুঞ্জণ অব্যাহত রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানিয়েছেন, রাজনীতির মাঠে থাকা নেতা ও দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে জনবিচ্ছিন্নদের দলীয় প্রতীক দেয়ার কারণে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে।  

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে চৌগাছার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। ফুলসারা ও চৌগাছা ইউনিয়নে বিনা ভোটে নৌকার দুজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। চেয়ারম্যান পদে যে ৯টি ইউনিয়নে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে সেগুলো হচ্ছে পাশাপোল, সিংহঝুলী, ধুলিয়ানী, জগদীশপুর, পাতিবিলা, হাকিমপুর, স্বরুপদাহ, নারায়নপুর ও সুখপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ।

পাশাপোল ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী অবাইদুল ইসলাম সবুজ ৭ হাজার ৩২৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে বিদ্রোহী আব্দুল মতলেব ২৭৮৪ ও শাহীন রহমান পেয়েছেন ১৮৩৪ ভোট। 

সিংহঝুলী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল হামিদ মল্লিক ৫৪০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে নৌকার প্রার্থী রেজাউর রহমান রেন্দু পেয়েছে ১৬৯৫ ভোট। এছাড়া আওয়ামী লীগের অপর বিদোহী প্রার্থী ইব্রাহীম খলিল বাদল ১৬৬৩ ও ইসলামী আন্দোলনের আবু সাঈদ পেয়েছেন ১০৭ ভোট। 

ধুলিয়ানী ইউনিয়নে নৌকার লজ্জাজনক হার হয়েছে বলে দলটির নেতাকর্মীরা মনে করছেন। এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম মমিনুর রহমান ৬১০৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকার এসএম আব্দুস সবুর ৪১৭, বিদ্রোহী আলাউদ্দিন ২২০৯ এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সামাউল ইসলাম পেয়েছেন ৩৯৮ ভোট। 

জগদীশপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদোহী প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম ৪৭২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা ৪১২২, অপর বিদ্রোহী আজাদুর রহমান আজাদ খান ১২৬৩ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিউল ইসলাম পেয়েছেন ৪৬৯ ভোট। 

পাতিবিলা ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান লাল ৫২০১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকার তারিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৫২১, ইসলামী আন্দোলনের আ. রহমান ৫৫৭, স্বতন্ত্র জাকির হোসেন ৩৫ ও রাজু আহমেদ ১২৯ ভোট পেয়েছেন। 

হাকিমপুর ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদুল হাসান ৮১১৩ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। এখানে নৌকার মামুন কবির পেয়েছেন ৪৫৬৯ আর জাকের পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন ২০২ ভোট। 

স্বরুপদাহ ইউনয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল কদর ৪৭৪৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। নৌকার সানোয়ার হোসেন ৪০৪৬, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ৬০৭ এবং স্বতন্ত্ররা যথাক্রমে ১১৩, ২২৪৯, ১৩৫৪ ভোট পেয়েছেন। 

নারায়নপুর ইউনিয়নে নৌকার শাহিনুর রহমান ৭০৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বিদুৎ পেয়েছেন ৩৩০০, স্বতন্ত্র তরিকুল ইসলাম ৪১০৪, জাকের পার্টির জাহাঙ্গীর ২৩৯, ইসলামী আন্দোলনের মহিদুল ইসলাম ৬৮৯ এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের আব্দুল গনি পেয়েছেন ১০১ ভোট। 
সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নে নৌকার হবিবর রহমান হবি ১০৪৫৩ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। এখানে বিদ্রোহী নুরুল ইসলাম ৫৪০৩ এবং ইসলামী আন্দোলনের আমির হোসেন পেয়েছেন ১০২৯ ভোট।

উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ভোটে ৩ ও বিনা ভোটে ২ মোট ৫ জন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ৬টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এবং অন্যদলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, বিতর্কিত ও জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের দলের দলীয় মনোনয়ন দেয়ার কারণে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। 

নেতৃবৃন্দরা অভিযোগ করেন, একটি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মোট ভোট পেয়েছেন ৪১৭। ফলে এই লজ্জার মুখ আওয়ামী লীগ কোথায় লুকাবে সেটাই দেখার বিষয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, জনগণের সাথে যাদের সম্পর্ক নেই তাদের দলীয় লোক সাজিয়ে টাকার বিনিময়ে দলীয় প্রতীক পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভোটের ফলাফল নিয়ে শিক্ষা নেয়া উচিত বলে অনেক নেতা মনে করেন। 

সিংহঝুলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সামসুর রহমান টিয়া বলেন, ৬টি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী পরাজিত হয়েছে। এর কারণই হচ্ছে অধিকাংশ ইউনিয়নে দলের ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন দেয়া হয়নি। ফলে উপযুক্ত প্রার্থী যেখানে পেয়েছে ভোটাররা সেখানে ভাগ হয়ে গেছে। 

স্বরুপদাহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আনোয়ার হোসেন বলেন, দলীয়ভাবে যোগ্য প্রার্থী দেয়া হয়নি সে কারণে নৌকার পরাজয় হয়েছে। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী জানান, আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে থেকে একাধিক নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে পছন্দ করেছেন তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। দলীয় প্রতীক পাওয়াকে কেন্দ্র করে কোনো অর্থবাণিজ্য করা হয়নি। বরং দলের মধ্যে থেকে অনেকে নির্বাচনে অসহযোগিতা করেছেন। 



সাতদিনের সেরা