kalerkantho

সোমবার । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৬ ডিসেম্বর ২০২১। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

শার্শায় দুই সদস্য প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচনী সহিংসতা, আহত ২০

বেনাপোল প্রতিনিধি    

১৭ নভেম্বর, ২০২১ ১২:২০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শার্শায় দুই সদস্য প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচনী সহিংসতা, আহত ২০

যশোরের শার্শায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডিহি ইউনিয়নে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন।

জানা যায়, ডিহি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দুই ইউপি সদস্য প্রার্থী খানজাহান আলী ও কামরুজ্জামান জজ মিয়ার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয়পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এ নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণ বিভ্রান্তিতে পড়েছেন এবং এলাকায় অশান্তি বিরাজ করছে বলে অভিযোগ করেন। 

থানায় লিখিত অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে ডিহি ইউনিয়নের পন্ডিতপুর গ্রামের শিশুতলার মোড় নামক স্থানে মোরগ মার্কা প্রতীকের মেম্বর প্রার্থী  খানজাহান আলী ও তালা মার্কা প্রতীকের কামরুজ্জামান জজ মিয়ার কর্মী-সমর্থকরা তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যে খানজাহান আলীর কর্মী-সমর্থকরা পন্ডিতপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় ভোট চাইতে গেলে কামরুজ্জামান জজ মিয়ার দুজন সমর্থক তাদেরকে রাতে ভোট চাইতে নিষেধ করেন। এতে খানজাহান আলীর সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে ধাওয়া করেন। এ খবর খানজাহান আলী ও জজ মিয়ার কর্মী-সমর্থকরা জানার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খানজাহান আলীর কর্মী-সমর্থকরা তাদের নির্বাচনী অফিসের পাশেই রাখা ইট ও লাঠি-সোটা নিয়ে জজ মিয়ার নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালান। এসময় হযরত আলীর ছেলে ফজলুর চায়ের দোকান ভাঙচুর করা হয়। পরে ফজলুর বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর চলে। 

সংঘর্ষে কামরুজ্জামান জজ মিয়ার পক্ষের কর্মী পন্ডিতপুর গ্রামের মতিয়ার রহমান (৪০), আমির আলী কবিরাজ (৬৫), জাকির হোসেন (৩৬), ইউসুফ (৩২), আনোয়ার (৫০), আলাল (৩২), চন্দ্রপুর গ্রামের আনসার আলী (৫৫), তরিকুল ইসলাম (২৬)-সহ আরও ৭ জন আহত হন। খানজাহান আলীর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে পন্ডিতপুর গ্রামের রুবেল (৩৫), আ. হালিম (৫৫), খলিশাখালী গ্রামের মিশির (৫৬) সজিব (২৫), জয়নাল (৪০), শাহিন আলম (৫০), চন্দ্রপুর গ্রামের মনির হোসেন মধু (৩৭) আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় জজ মিয়ার ৮ জন এবং খানজাহান আলীর ২ জন কর্মী-সমর্থকদের উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে জজ মিয়ার ২ জন সমর্থককে আশঙ্কাজনক হওয়ায় ডাক্তার তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। 

হযরত আলীর ছেলে চায়ের দোকানদার ফজলু ও তার মা, মোশারফ হোসেনের ছেলে মিন্টু মিয়া জানান, ওই দিন রাত ৮টার দিকে পন্ডিতপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় খানজাহান আলীর কর্মী-সমর্থকরা ভোট চাইতে গেলে জজ মিয়ার দুজন কর্মী-সমর্থক তাদেরকে নিষেধ করেন। এরপরও তারা ভোট চাইতে গেলে বাধা দেওয়ায় শিশুতলা মোড়ে খানজাহান আলীর লোকজন ইট-পাটকেল ও লাঠি-সোটা নিয়ে জজ মিয়ার নির্বাচনী কার্যালয়, ফজলুর চায়ের দোকান ও তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। গোড়পাড়া পুলিশ ক্যাম্প ও শার্শা থানা পুলিশ যৌথভাবে ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

তালা প্রতীকের মেম্বর প্রার্থী কামরুজ্জামান জজ মিয়া বলেন, মোরগ প্রতীকের প্রার্থী খানজাহান আলী কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও আমার কর্মী-সমর্থকদের ওপরে হামলা করে। 

মোরগ প্রতীকের মেম্বর প্রার্থী খানজাহান আলী বলেন, তালা প্রতীকের মেম্বর প্রার্থী কামরুজ্জামান জজ মিয়ার লোকজন চন্দ্রপুর, খলিশাখালী গ্রাম থেকে এসে আমার কর্মী-সমর্থকদের আহত করে ও কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর করে।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম খান বলেন, ডিহির ৪ নম্বর ওয়ার্ড পন্ডিতপুর গ্রামের মেম্বর প্রার্থী কামরুজ্জামান জজ মিয়া ও খানজাহান আলীর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। উভয়পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাদের দুই পক্ষকে আমি থানায় ডেকে আপস-মীমাংসা মর্মে মুচলেকা নিয়েছি, তারা পুনরায় এমন ঘটনা আর ঘটাবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। 



সাতদিনের সেরা