kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

১৩ রো রো ফেরির ৬টি বিকল

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া দুর্ভোগের নৌরুট

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি    

১৬ নভেম্বর, ২০২১ ১৯:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া দুর্ভোগের নৌরুট

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে রো রো (বড়) ফেরির তীব্র সংকটে স্বাভাবিক গাড়িপারাপার ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত গাড়ির চাপ অব্যাহত থাকায় দৌলতদিয়া ঘাটে লেগে থাকা যানজট পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। মাত্র তিন কিলোমিটার নৌপথ, ফেরিপার হতে এসে গাড়িগুলো দীর্ঘ সিরিয়ালে আটকা পড়ে থাকছে। আজ মঙ্গলবার সেখানে ফেরিপারের অপেক্ষায় আটকা পড়ে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ রাজধানীমুখী শত শত বিভিন্ন গাড়ি। চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন গাড়ির চালকসহ যাত্রীসাধারণ।  

আজ মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটটার্মিনালের বিশাল পার্কিং ইয়ার্ড পণ্যবাহী ট্রাকে পরিপূর্ণ। অপর দিকে ফেরিঘাটের জিরোপয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাজার পদ্মার মোড় পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার এক পাশে পণ্যবাহী শত শত ট্রাকের দীর্ঘ সারি। অপর পাশে জিরোপয়েন্ট থেকে মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারিজ পর্যন্ত চার কিলোমিটার রাস্তায় ফেরিপারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে আটকে আছে দূরপাাল্লার যাত্রীবোঝাই কয়েক শ বাস। এদিকে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে মহাসড়কের ১৫ কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী সদর থানার গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাটগামী দুই শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়ে আছে। 

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, মাত্র একুশ-বাইশ দিন আগেও এই নৌপথের বহরে ছোট ফেরির পাশাপাশি ১৩টি রো রো (বড়) ফেরি ছিল। এর মধ্যে আমানত শাহ্ নামের একটি বড় ফেরি গত ২৭ অক্টোবর পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে ডুবে গেছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে আছে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, ভাষাশহীদ বরকত, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন ও শাহ আলী নামের অপর চারটি বড় ফেরি। পুনর্বাসন কাজের জন্য ওই ফেরি চারটি নারায়নগঞ্জ ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। বিকল হয়ে পড়েছে শাহ্ জালাল নামের আরো একটি বড় ফেরি। 

পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা ‘মধুমতিতে’ ওই ফেরিটির মেরামত কাজ চলছে। তেরটি রো রো (বড়) ফেরির ছয়টি না থাকায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে বড় ফেরির তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সচল থাকা ৭টি রো রো (বড়), ছয়টি ইউটিলিটি (ছোট) ও দুটি কে-টাইপ ফেরি দিয়ে কোন রকমে গাড়ি পারাপার করা হচ্ছে।  
গতকাল সোমবার সকাল ৬টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত চব্বিশ ঘন্টায় দৌলতদিয়া ঘাট থেকে রাজধানীমুখী মোট তিন হাজার চারটি গাড়ি ফেরিপার হয়। এর মধ্যে যাত্রীবাহী বাস ৬১১টি, পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ৭৩৮টি, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন ছোটগাড়ি ১,৬৫৫টি। সচল সাতটি রো রো (বড়), ছয়টি ইউটিলিটি (ছোট) ও দুটি কে-টাইপ ফেরি দিয়ে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ওই গাড়িগুলো ফেরিপার করা হয়। 
এতে ছোট-বড় মিলে ১৬টি ফেরির মোট ট্রিপসংখ্যা ছিল ১৯৩টি। প্রতিটি রো রো (বড়) ফেরির ধারণ ক্ষমতা শুধুমাত্র যাত্রীবাহী বাস হলে ১২টি, পণ্যবাহী ট্রাক হলে ১৮টি। প্রতিটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরির ধারণ ক্ষমতা যাত্রীবাহী বাস ৫টি অথবা পণ্যবাহী ট্রাক ৮টি। অবকাঠামোগত কারণে কে-টাইপ ফেরিতে ভারী কোন যান পারাপার করা হয় না। ওই ফেরিতে শুধুমাত্র মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারসহ ছোট গাড়িগুলো পারাপার করা হচ্ছে। 

এদিকে ঘাটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া একটি ব্যস্ততর্ম নৌপথ। ফেরিসংকট, ঘাটসমস্যা, নাব্যতাসংকট, ঘনকুয়াশাসহ নানা সংকটের কারণে প্রায় বছর জুড়ে এই নৌপথে স্বাভাবিক ফেরিসার্ভিস ব্যাহত হয়। তিন কিলোমিটার সামান্য এই নৌপথ ফেরিপার হতে এসে প্রতিদিন লাখো মানুষ দুর্ভোগের শিকার হন। অথচ চিহ্নিত সংকট নিরসনে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না।

দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিসির সহকারি মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. শিহাব উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘাট পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই নৌপথে ছোট ফেরির পাশাপাশি কমপক্ষে ১২টি রো রো (বড়) ফেরি সার্বক্ষণিক ভাবে সচল রাখা প্রয়োজন। কিন্ত বতর্মান সেখানে বড় ফেরি সচল রয়েছে মাত্র ৭টি। অপর ছয়টি ইউটিলিটি ও দুটি কে-টাইপ ফেরি সচল থাকলেও সেগুলোর ধারণ ক্ষমতা অনেক কম।’ দৌলতদিয়া ঘাটে লেগে থাকা যানজট পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে রো রো (বড়) ফেরির সংখ্যা বাড়ানো খুব জরুরী বলে তিনি জানান।



সাতদিনের সেরা