kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

১২ ইঞ্চি ট্রলিতে মেলে ৭ ইঞ্চি বালি!

বেনাপোল প্রতিনিধি   

১৫ নভেম্বর, ২০২১ ১৬:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১২ ইঞ্চি ট্রলিতে মেলে ৭ ইঞ্চি বালি!

বেনাপোলে অভিনব কায়দায় দীর্ঘদিন ধরে ক্রেতাদের চোখে ধুলো দিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বালি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। যশোরের বেনাপোল পৌরসভার প্রধান সড়কের বেনাপোল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবৈধভাবে বালি রেখে চলছে বালি ব্যবসার মহাউৎসব। সরকারি জায়গা দখল করে ও ক্রেতাদের ঠকিয়ে এ ব্যবসা করলেও প্রশাসন জেনেও এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না অদৃশ্য কারণে। বালি ব্যবসায়ীদের নামে নানা অভিযোগ থাকলেও এই সেন্ডিকেটের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

জানা যায়, বালি ব্যবসায়ীরা ট্রাকে করে ৫০০ সেফটি বালি ক্রেতার কাছ থেকে টাকা নিলেও সেটা ৪০০ থেকে ৪৫০ সেফটি হয়ে থাকে। খুচরাভাবে বালি বিক্রি করার জন্য বেশ কিছু ইঞ্ছিন চালিত ট্রলি তৈরি করে অবাধে ব্যবসা করে যাচ্ছে। এসব ট্রলির গভীরতা ১২ ইঞ্চি থাকলেও এক নিখুঁত পদ্ধতিতে তা কমিয়ে ৭/৮ ইঞ্চি করা হয়েছে। ১২ ইঞ্চি বালির টাকা নিয়ে ক্রেতাকে দেওয়া হচ্ছে ৭/৮ ইঞ্চি বালি। যেটা সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে বছরের পর বছর ধরে এই বালি ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার টাকা।

এ ব্যাপারে ট্রলি চালকদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, আমরা নিরুপায় ট্রলি যদি ছোট না করি তাহলে আমাদেরকে ভাড়া দেবে না মহাজনেরা। এভাবে মানুষ জনকে ঠকাতে আমাদেরও খারাপ লাগে। এভাবেই ব্যবসা করে মহাজনেরা তো লাখ লাখ টাকার মালিক হচ্ছে আর আমরা টায়ার কিনতে গেলে সমিতি থেকে টাকা তুলতে হচ্ছে। আমরাও চাই ট্রলি বড় হোক এবং আমরা সঠিকভাবে ভাড়া খাটি।

বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আছে অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করে বেনাপোল বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে প্রধান সড়কের দুই পাশে যত্রতত্র বালু রাখার অভিযোগ। যার ফলে বাতাসে বালি উড়ে পথচারীসহ কোমলমতী স্কুলগামী শিশুদের চোখে মুখে যায়। এ ছাড়া কুষ্টিয়া থেকে ট্রাকে করে বালি আনার সময় কোন লোকের কাছে বিক্রি করার আগে সেসব ট্রাক থেকে কিছু বালি নামিয়ে রেখে, বালি আবার সমান করে ক্রেতাকে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বালি ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, আসলে ট্রাক থেকে বালি আমরা নামাই না। এখানে দালাল আছে যারা ট্রাক ধরে বালি বিক্রি করে তারাই নামিয়ে রেখে পরে আমাদের কাছে বিক্রি করে দেয়।

ট্রলির গভীরতা ছোট করার বিষয়ে একাধিক বালি ব্যবসায়ী শিপন, শরিফুল, শফিকুল, করিমউল্লাহ, তরিকুলসহ প্রত্যেকে একে অপরের দোষ দিয়ে বলেন, অনেকদিন যাবত এখানে সবাই এভাবেই ব্যবসা করছে। এজন্য বাধ্য হয়ে আমরাও করছি। তা না হলে একা ট্রলি বড় করে ব্যবসা করতে পারব না। সরকারি জমিতে বালি রাখার বিষয় জিজ্ঞাসা করলে কেউই সদুত্তর দিতে পারেনি।

অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করে বালি রাখার বিষয়ে বেনাপোল পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রাশিদা বেগম বলেন, রাস্তার জমি দখল করে অবৈধভাবে বালি রাখার বিষয়ে আমরা পূর্বেও ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি আমার ঊর্ধ্বতনদের সাথে কথা বলে পুনরায় ব্যবস্থা নেব।



সাতদিনের সেরা